Advertisement
E-Paper

শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! শিক্ষকদের ‘মর্যাদা ফেরাতে’ স্বচ্ছ এবং শুদ্ধ নিয়োগের প্রতিশ্রুতিও

শিক্ষক দিবসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ‘‘নিশ্চিন্তে থাকুন। কোনও অন্যায় হবে না। আর শিক্ষকদের পড়ানোর বদলে যাতে সারাক্ষণ মিড-ডে মিলের হিসাব করতে না হয়, সে জন্য শিক্ষাকর্মীদেরও নিয়োগ করা হবে।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:১০
Suvendu Adhikari

শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত।

ভাষণ নয়, কাজে করে দেখানোই সরকারের লক্ষ্য। রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার শিক্ষক নিয়োগ থেকে শিক্ষকদের বকেয়া মহার্ঘভাতা— নানা বিষয়ে বিশেষ ঘোষণা করলেন তিনি।

শিক্ষকদের মহার্ঘভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ওই বিষয়ে ইন্দু মলহোত্র কমিটির নির্দেশ মেনেই পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। এককালীন অর্থ দেওয়া সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, স্বচ্ছ এবং ‘পরিশুদ্ধ’ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ভাষণ নয়, কাজে করে দেখাব।’’

সম্প্রতি রাজ্য সরকার পোষিত স্কুলগুলির শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা নিয়ে রাজ্যকে অবস্থান স্পষ্ট করতে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। নিউ টাউনে কনভেনশন সেন্টারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা দফতর এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান’ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন শুভেন্দু। সেখান থেকে তিনি জানান, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪২ শতাংশ। রাজ্য সরকার পুজোর আগে আগাম বেতন দেবে। তার সঙ্গে ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত থাকবে। তবে এটি বকেয়া ডিএ নয়।

শিক্ষকদের বকেয়া মহার্ঘভাতা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে ডিএ বকেয়া নিয়ে লড়াই চলছে। আগের সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কিছুটা দিতে বাধ্য হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এসে সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের অনেকটা দিয়ে দিয়েছি। শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমাদের সরকারের নীতি খুব পরিষ্কার। মলহোত্র কমিটি যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা মেনে নেব। আমরা হিসাব করেছি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ভাতা দিতে গেলে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা লাগবে। আমরা হয়তো এক দিনে দিতে পারব না। তবে মলহোত্র কমিটি আমাদের নির্দেশ দিলে আমরাও সহযোগিতাও করব।’’ ডিএ-র প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘এটা অর্থনৈতিক সুরক্ষার বিষয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির যুগে অর্থনৈতিক সুরক্ষাটাও আমাদের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে দরকার।’’

শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শিক্ষকদের বকেয়া ডিএ নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ইতিমধ্যে আমরা শিক্ষাব্যবস্থার অনেক ক্ষতি করে ফেলেছি। আর হবে না।’’ সম্প্রতি কলকাতার ভাবানীপুরে মিত্র ইনস্টিটিউশনে এক পড়ুয়াকে সাপের ছোবল মারার প্রসঙ্গ তুলে বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘তিন বছর কম্পোজ়িট গ্র্যান্ট পাননি। সামান্যই টাকা। ওতে কিছু হয় না। কিন্তু ওই টাকায় কার্বলিক অ্যাসিড, ফিনাইল কেনা যায়।’’

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ‘পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরিশুদ্ধ করার’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পূর্বতন সরকার শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এ বার সুপ্রিম কোর্ট এবং হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই নিয়োগ হবে এবং বেআইনি কাজ হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘নিশ্চিন্তে থাকুন। কোনও অন্যায় হবে না। আর শিক্ষকদের পড়ানোর বদলে যাতে সারাক্ষণ মিড-ডে মিলের হিসাব করতে না হয়, সে জন্য শিক্ষাকর্মীদেরও নিয়োগ করা হবে।’’

Suvendu Adhikari Teachers DA Teacher Recruitment SSC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy