প্রসূতিদের হাসপাতালে আনা বা ছুটির পর বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য রয়েছে অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার সরকারি প্রকল্প। সেই প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ কল্যাণীর ‘কলেজ অফ মেডিসিন অ্যান্ড জওহরলাল নেহরু মেমোরিয়াল’ (জেএনএম) হাসপাতালে। অভিযোগ, এমন বহু প্রসূতির নামে সরকারি ভাউচার এবং অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়ার বিল জমা দেওয়া হয়েছে, যাঁরা আদতে ওই হাসপাতালেই ভর্তি হননি। ঘটনাটি নিয়ে শোরগোল পড়তেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আট সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি এই হাসপাতালের সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেন ধ্রুবজ্যোতি সরকার। দায়িত্ব নেওয়ারই তাঁর নজরে আসে ‘মাতৃযান’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ভেন্ডরেরা প্রায় দেড় বছর ধরে কোনও বিল জমা দেননি। মাস ছয়েক আগে সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের দ্রুত বকেয়া বিল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তার পরেও বিল জমা না-পড়ায় আবার নির্দেশিকা দেওয়া হয়।
পর পর তাগাদা দেওয়ায় ভেন্ডরেরা একসঙ্গে সব বিল জমা করেন। আর সেই বিল যাচাই করে দেখতে গিয়েই চোখ কপালে ওঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তদন্তে দেখা গিয়েছে, যে সব প্রসূতির নামে মাতৃযানের ভাড়া বাবদ সরকারি ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকে কখনওই কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে আসেননি। হাসপাতালের কোনও রেজিস্টার বা নথিতে তাঁদের ভর্তি বা প্রসব সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। তা সত্ত্বেও ওই সব প্রসূতির নামে সরকারি টাকার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগ, কাছাকাছি এলাকার প্রসূতিদের হাসপাতালে আনার ক্ষেত্রেও অনিয়ম। দেখানো হয়েছে অনেক দূরত্ব। সেই ভাবেই বিল করে জমা দেওয়া হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। এই প্রকল্পে মোট সাতজন ভেন্ডর যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকটি বিল পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ভেন্ডরদের সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স বা মাতৃযান পরিষেবা পরিচালনার বৈধ অনুমতি ছিল কি না, সেই নথিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাসপাতাল সুপার। পাশাপাশি, গোটা বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরকেও জানানো হয়েছে। কল্যাণী বিধানসভার বিধায়ক অনুপম বিশ্বাস এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এ ব্যাপারে জানান, হাসপাতালের অন্দরে কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সত্যতা প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।