শীত আসছে পশ্চিমবঙ্গে। আর শীতকাল মানেই কমলালেবু! ছোট থেকে বড়— অনেকেরই পছন্দের। দুপুরের খাওয়ার পর কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে মুখে পুরে চিবোতে ভালবাসেন অনেকেই। তবে এই কমলালেবুর জন্য সমতলের মানুষকে অপেক্ষা করতে হয় দার্জিলিং বা সিটঙের মতো এ রাজ্যে কমলালেবু চাষের উপর। ভিন্রাজ্য থেকেও আমদানি হয়। তবে এ বার সমতলেই গাছভর্তি কমলালেবুর বাগানের দেখা মিলছে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে!
বাগান জুড়ে সারি সারি কমলালেবুর গাছ। বাগানে ঢুকলেই নাকে আসছে লেবুর মিষ্টি সুবাস। অশোকনগরে নারায়ণ মণ্ডল প্রায় আট বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন তাঁর কমলালেবুর বাগান। আর সেই বাগান দেখতে কলকাতা বা তাঁর আশপাশ এলাকা থেকে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। ঘুরে দেখছেন নারায়ণের নার্সারি। আগাম শীতের মরসুমে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর পাশাপাশি কমলালেবুর বাগানে ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ অনেকেই।
নারায়ণের দাবি, চলতি বছরে তাঁর বাগানে কমলালেবুর ফলন আগের কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এ বার ওই বাগানে প্রায় ৭৫টি গাছে কমলালেবুর ফলন ধরেছে। শুধু ফলন নয়, বাগানের কমলালেবুর স্বাদ ও সুগন্ধ নিয়েও আশাবাদী নারায়ণ। তাঁর দাবি, ওই নার্সারি ফলন হওয়া কমলালেবুর স্বাদে রয়েছে বিশেষত্ব।
আরও পড়ুন:
সমতলের আবহাওয়ায় কমলালেবুর গাছ বাঁচিয়ে রাখা মোটেই সহজ কাজ নয়। বিশেষ করে চলতি বছর যে পরিমাণ গরম পড়েছিল, তাতে ওই বাগানে কমলাগাছের পরিচর্যা করা কঠিন ছিল। সেই কারণে কমলালেবুর গাছের পরিচর্যায় বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়েছে বলে জানান নারায়ণ। কী ভাবে পরিচর্যা করেছেন, তা-ও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, গাছগুলিকে অতিরিক্ত তাপ থেকে রক্ষা করতে ব্যবহার করা হয়েছিল বিশেষ ধরনের গ্রিন নেট (তাপ নিরোধক জাল)। সেই জাল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং গাছকে অতিরিক্ত গরমের হাত থেকে রক্ষা করে। নারায়ণের দাবি, এ বছর তাঁর বাগানের কমলালেবু গাছের ফলন এবং পরিচর্যার পিছনে আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে।
কী ভাবে সমতলে কমলালেবুর ফলন করে আসছেন নারয়ণ? তাঁর কথায়, ‘‘সেপ্টেম্বর মাসে গাছের গোড়ায় মাটি খুঁড়ে প্রথমে ভার্মিকম্পোস্ট, তার উপর ভাত এবং আবার ভার্মিকম্পোস্ট দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। ফুল আসার পর এবং পরে ফলের কুঁড়ি ধরলেও একই পদ্ধতিতে পরিচর্যা করা হয়।’’ তাঁর অভিজ্ঞতায়, এই পদ্ধতি গাছের বৃদ্ধি ও ফলনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেছেন প্রায় সাত থেকে আটজন শ্রমিক।
রবিবার থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে অশোকনগরের এই কমলালেবুর বাগান। আর এই বাগানে দু’দিনে ভিড় ভালই হয়েছে বলে দাবি বাগান মালিকের। বাগানে ঢুকতে গেলে মাথাপিছু ১০ টাকার টিকিট কাটতে হয় দর্শনার্থীদের। নারায়ণের কথায়, ‘‘সকলেই যাতে অল্প খরচে এই বাগান ঘুরে দেখতে পারেন, সেই কারণেই টিকিটের দাম কম রাখা হয়েছে।’’ তবে এখনই ওই বাগান থেকে কমলালেবু কেনার কোনও সুযোগ নেই। বাগান মালিকের দাবি, মূলত দর্শনীয় স্থান হিসেবেই খুলে দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে গাছ থেকে ফল পেড়ে বিক্রির পরিকল্পনা নেই তাঁর। জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ নাগাদ বাগান বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শীতের মরসুমে সীমিত সময়ের জন্যই দেখা মিলবে সমতলের এই কমলালেবুর বাগানের।