দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে প্রবাসী বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছে অন্যতম প্রাচীন সংগঠন বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ অস্ট্রেলিয়া (বিসিএএসএ)।এ বছর তাদের দুর্গাপুজো পা দিল ২১তম বর্ষে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই আয়োজন হয়ে উঠেছে প্রবাসের মাটিতে শিকড়ের টানআর বাঙালির মিলনমেলার এক পরিচিত ঠিকানা।
প্রবাসে কর্মব্যস্ত জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অধিকাংশ দুর্গাপুজোই আয়োজিত হয় সপ্তাহান্তে। অ্যাডিলেডেও তার ব্যতিক্রম নেই। যেমন ‘সাই বাংলাদেশ পূজা অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়া’, স্থানীয় শ্রী গণেশ মন্দির বা বেদান্ত সেন্টারে প্রবাসী ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সপ্তাহান্তের নির্দিষ্ট দিনে দুর্গোৎসবের প্রধান আয়োজনগুলি সম্পন্ন করে। তবে বিসিএএসএ-র পুজোর বিশেষত্ব, পঞ্জিকার নির্ধারিত তিথি মেনেই দেবীর আরাধনা। সপ্তাহান্তেরসুবিধার চেয়ে এখানে অগ্রাধিকার পায় পুজোর মূল দিনক্ষণ ও ধর্মীয় রীতিনীতি। ষষ্ঠীর বোধন থেকে মহাষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপুজো, নবমীর আরতি, বিজয়া দশমীর সিঁদুরখেলা— প্রতিটি পর্বই নিষ্ঠার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। ঢাকের বাদ্য, ধুনুচির ধোঁয়া, অঞ্জলির মন্ত্র আর ভোগের সুবাসে কয়েকটা দিনের জন্য অ্যাডিলেডের মাটিতেই গড়ে ওঠে এক টুকরো বাংলা। উৎসবের আবহে মিলেমিশে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম, দূরত্ব ঘুচিয়ে দৃঢ় হয় পারস্পরিক বন্ধন।
একুশ বছরের এই পথচলা তাই নিছক দুর্গাপুজোর আয়োজন নয়। এ প্রবাসে নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে থাকার গল্প; দূরদেশে আপনজনদের নিয়ে গড়ে তোলা এক আত্মীয়তার পরিসর। দেবী দুর্গার আরাধনায় সেই মিলনমেলা আরও সমৃদ্ধ হোক— আনন্দ,শান্তি ও সম্প্রীতির আলোয় ভরে উঠুক সবার জীবন।