পুজো আসছে শুনলেই মনটা কেমন যেন করে ওঠে। তাই না? আপনি কলকাতার বাগবাজারে থাকুন কিংবা সুদূর জার্মানির এসেনে— ঢাকের শব্দ, শিউলির গন্ধ আর শরতের নীল আকাশের টান থেকে দূরে থাকা কি এত সহজ? এই টানের জন্য অবশ্য কোনও পাসপোর্ট-ভিসা লাগে না। আর সেই টানেই এসেনের বাঙালিরা প্রতি বছর পুজোর সময়ে নিজেদের হাতে গড়ে তোলেন এক টুকরো কলকাতা।
এ বার তৃতীয় বছর। ১৬ থেকে ২০ অক্টোবর, টানা পাঁচ দিন ধরে চলবে এই দুর্গোৎসব। আয়োজনে ইন্ডিয়ান কালচারাল কানেকশন এসেন ই.ভি.
দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে বসে একটা গোটা দুর্গাপুজো দাঁড় করানো মুখের কথা নয়। পুজোমণ্ডপ সাজানো থেকে প্রতিমা ও পুজোর সামগ্রী জোগাড়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া থেকে রান্নাবান্না—সবই করতে হয় নিজেদের উদ্যোগে, নিজেদের হাতেই। আর সেই কাজটাই প্রতি বছর নিষ্ঠা আর ভালবাসায় করে চলেছেন এসেন ও পার্শ্ববর্তী শহরের বাঙালিরা। স্কুল, কলেজ বা অফিসের ব্যস্ততার ফাঁকেই ছোট-বড় সকলে নেমে পড়েছেন পুজোর প্রস্তুতিতে।
পাঁচ দিনের উৎসবে পুজোর সমস্ত আয়োজন ও দায়িত্বও সামলাবেন উদ্যোক্তারাই। তার সঙ্গে থাকবে বাংলা নাটক, গান, নাচ, কবিতা— সারা দিন জুড়ে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম হাত মিলিয়ে বিদেশের মাটিতে তুলে ধরবে বাংলার সংস্কৃতি। এ যেন শুধু পুজো নয়, নিজের শিকড়কে নতুন করে ছুঁয়ে দেখারও এক উপলক্ষ।
আর বাঙালির পুজো মানেই তো খাওয়াদাওয়া! সেই আয়োজনেও কোনও খামতি নেই। লুচি-আলুরদম, খিচুড়ি-লাবড়া থেকে মাছ-ভাত, বিরিয়ানি আর মিষ্টি— বাঙালির চেনা হেঁসেলের কত স্বাদই না উঠে আসবে প্রবাসীদের পাতে। কয়েক গ্রাসেই হয়তো মুছে যাবে হাজার মাইল দূরে থাকার মনখারাপ।
সেপ্টেম্বর থেকেই এসেন ও আশপাশের শহরগুলির বাঙালিদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা আসবে, হবে ভূরিভোজ, চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। স্কুলের হোমওয়ার্ক, কলেজের পড়াশোনা আর অফিসের মিটিংয়ের ফাঁকে পুজোর এই ব্যস্ততাই যেন সকলের জন্য একটু বড় করে শ্বাস নেওয়ার অবকাশ।
কলকাতা থেকে বহু দূরে, জার্মানির এসেনে, বাঙালির ঘরে ফিরবে পুজোর সেই চেনা আনন্দ।