Advertisement
E-Paper

হড়পা বান নেমে বিধ্বস্ত নেপাল! জলের তোড়ে ভেসে গেল বাড়ি, গাড়ি, সেতু! বহু হতাহতের শঙ্কা, জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র

বুধবার সকালে নেপালের ওই বিপর্যস্ত এলাকায় কোনও বৃষ্টি হয়নি। রোদও উঠেছিল সকাল থেকে। এরই মধ্যে সকাল ৯টা নাগাদ ভোটে কোশী নদীতে জলস্তর আচমকা বৃদ্ধি পায়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০২৬ ১৪:০৮
ভোটে কোশী নদীতে হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালের রাসুয়া জেলা।

ভোটে কোশী নদীতে হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালের রাসুয়া জেলা। ছবি: এএফপি।

হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তর নেপালের রাসুয়া জেলা। বুধবার সকালে চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় আচমকা ওই হড়পা বান নামে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। বানের তোড়ে ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, বাজার, একের পর এক গাড়ি। রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। তবে ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা করছে রাসুয়া জেলা প্রশাসন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কমপক্ষের আট জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।

কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত রাসুয়ায় আনুমানিক ৫০ হাজার মানুষের বাস। তিব্বত থেকে নেপালে প্রবেশ করে এই জেলা দিয়েই বয়ে গিয়েছে ভোটে কোশী নদী। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমান, তিব্বতের দিক থেকে প্রবেশ করেছে বন্যার জল। প্রাথমিক ভাবে খবর, চিন সীমান্তবর্তী তিমুরে এবং স্যাব্রুবেসী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তিব্বতেও। চিনা কর্তৃপক্ষের দাবি, নেপালের দিকে হওয়া হড়পা বানের জেরে তিব্বতের গাইরং প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনা সংবাদসংস্থা শিংহুয়া জানাচ্ছে, বিপর্যয়ের জেরে সেখানেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাসুয়ার জেলাশাসক নগেন্দ্র পারিয়ার রয়টার্সকে জানান, বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকা ভেসে যাওয়ার খবর মিলেছে। তিনি বলেন, “প্রচুর সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু আমি এখনই নিশ্চিত ভাবে কিছু বলতে পারছি না।” পরে নেপাল পুলিশ অন্তত আট জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।

নেপালে প্রবেশের পর ভোটে কোশী নদী গিয়ে মিশেছে ত্রিশুলি নদীতে। দুর্যোগের জেরে ত্রিশুলি নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতেও সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিঙ, চিতওয়ান এবং গোর্খা এলাকায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর। নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে রাসুয়ার জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, মঙ্গলবার রাতে বা বুধবার সকালে সেখানে কোনও বৃষ্টি হয়নি। বুধবার সকালে রোদও উঠেছে এলাকায়। তবে নদীর উচ্চ অববাহিকায় কোথাও হিমবাহ-হ্রদ ফেটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয় প্রশাসনের কাছে।

বুধবার সকালের এই হড়পা বানের পরে জরুরি বৈঠকে বসেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজের জন্য সেনা এবং পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। দুর্যোগ মোকাবিলায় চিকিৎসকদের একটি দল এবং অ্যাম্বুল্যান্সও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। উদ্ধারকাজে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে হেলিকপ্টারও।

প্রকাশ্যে আসা বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, প্রবল তোড়ে কাদামাটি মেশা জল ঢুকছে নদীতে। সেই জলের তোড়ে ভেঙে পড়ছে বাড়ি। বেশ কিছু ভিডিয়োয় গাড়ি ভেসে যেতেও দেখা যাচ্ছে। নেপাল সেনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বন্যায় তিমুরে এবং সিয়াব্রুবেসি এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। রাসুয়ার শুল্ক বিভাগের আধিকারিক রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, অফিস চত্বরের ভিতরে রাখা বেশ কিছু গাড়ি ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। সেখানে একটি সেতু তৈরি করা হয়েছিল। সেটিও ভেঙে গিয়েছে বলে জানান তিনি।

সংক্ষেপে
  • ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
  • বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
  • হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
Nepal Flash flood

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy