সারি সারি বইয়ের দোকান, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কফি হাউস, প্যারামাউন্ট, পুঁটিরামের মিষ্টির দোকান নিয়ে দাঁড়িয়ে বাঙালির প্রিয় বইপাড়া, তার প্রাণকেন্দ্র কলেজ স্কোয়ার। সেই কলেজ স্কোয়ারে আছে একখানা কবর!
কলেজ স্কোয়ারের দক্ষিণ পাড়ে জলাশয়ের ধারে দেখা মেলে এক স্মৃতিস্তম্ভের। স্মরণিকা স্তম্ভটি ডেভিড হেয়ারের স্মৃতিতে নির্মিত। তার নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন হেয়ার সাহেব।
ডেভিড হেয়ারের জন্ম ১৭৭৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। পঁচিশ বছর বয়সে স্কটল্যান্ড থেকে এ দেশে এসেছিলেন হেয়ার সাহেব। ভারতীয়দের শিক্ষিত করে তোলার ব্রত নিয়ে বাংলায় রয়ে যান সাহেব।
একে একে গড়ে তোলেন হিন্দু কলেজ, স্কুল-বুক সোসাইটি, ক্যালক্যাটা স্কুল-সোসাইটি, ক্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজ। ঠনঠনিয়া, সিমলা এবং পটলডাঙায় তৈরি করেন স্কুল। কলেজ স্ট্রিট এলাকায় একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে আছে তাঁর দান করা জমিতে।
কলেরা আক্রান্ত ছাত্রের সেবা করতে করতে ১৮৪২ সালের ৩১ মে কলেরার কবলে পড়েন বছর সাতষট্টির ডেভিড হেয়ার। পর দিন, ১ জুন সন্ধ্যায় মারা যান তিনি।
খ্রিস্টান সমাজ ডেভিড হেয়ারের শবের জন্যে জমি দিতে রাজি হয়নি। কলেরা ছোঁয়াচে রোগ এ-সব দোহাই দিলেও আসল কারণ ছিল অন্য। ডেভিড হেয়ারের ভারত এবং ভারতীয় প্রীতি খ্রিস্টানরা ভাল চোখে দেখতেন না।
অগত্যা গোলদীঘির কাছে অর্থাৎ কলেজ স্কোয়ারে চির ঘুমের জন্যে জায়গা পান ডেভিড হেয়ার। সেখানে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।
সেই কবর নিয়ে স্থানীয়রা মামলা ঠুকেছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, মৃতদেহ সমাধিস্থ করায় পুকুরের জল বিষিয়ে গিয়েছে। অতএব কবর সরাতে হবে। যদিও মামলায় রায় কবরের পক্ষে গিয়েছিল। হেয়ার সাহেবের কবর আজও কলেজ স্কোয়ারে বিদ্যমান।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।