Advertisement
E-Paper

সম্পাদক সমীপেষু: এক সুহানা সফর

আধুনিক ইউরোপ তো এই অভিবাসন নীতিরই ‘সুফল’ আজও ভোগ করছে। কলম্বাসের জাহাজ মেক্সিকোয় থামে, গণহত্যা শুরু হয়। গোটা উত্তর আমেরিকার সভ্যতাই তো ইউরোপীয় মানুষদের ওখানে গিয়ে বসতি স্থাপনের কাহিনি, ভূমিপুত্রদের হত্যার কাহিনি। তাই আলেহো কার্পেন্তিয়ারের মতো লেখক দেখান: ইউরোপের নবজাগরণ আসলে লাতিন আমেরিকায় রফতানি করে গিলোটিন। গণহত্যার অস্ত্র।

শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০১৮ ০০:০০

‘সঙ্কীর্ণতার পরাজয়’ (১৮-৭) শীর্ষক সম্পাদকীয়টির প্রেক্ষিতে এই চিঠি। আফ্রিকাকে এক সময় ইউরোপীয় প্রভুরা গণহত্যা ও বন্দুকের গুলি ছাড়া আর কিছুই উপহার দেয়নি। আজ ফ্রান্সের জয় দেখিয়ে দিল, পোগবারা না থাকলে, বাস্তিল দুর্গের আরও এক বার পতন হত ক্রোয়েশিয়ার হাতে। ফ্রান্সের এই জয় এমন সময় এল, যখন গোটা ইউরোপ ও আমেরিকা জুড়ে পুরনো ভূতেরা আবার জেগে উঠছে। চূড়ান্ত দক্ষিণপন্থা ও নবনাৎসিদের লংমার্চ চলছে; এবং তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুরেই বলছে: এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকা থেকে আসা অভিবাসীরাই হল মূল শত্রু।

অথচ মানব ইতিহাসের অগ্রগতির পশ্চাদপট হল এক সুহানা সফরের গল্প। মানুষ অভিবাসন করে বলেই নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি হয়। বৌদ্ধ ধর্ম ভারত থেকেই চিনে ছড়িয়ে পড়ে; আরবদের মাধ্যমেই অ্যালজেব্রার জ্ঞান ইউরোপ পায়।

আধুনিক ইউরোপ তো এই অভিবাসন নীতিরই ‘সুফল’ আজও ভোগ করছে। কলম্বাসের জাহাজ মেক্সিকোয় থামে, গণহত্যা শুরু হয়। গোটা উত্তর আমেরিকার সভ্যতাই তো ইউরোপীয় মানুষদের ওখানে গিয়ে বসতি স্থাপনের কাহিনি, ভূমিপুত্রদের হত্যার কাহিনি। তাই আলেহো কার্পেন্তিয়ারের মতো লেখক দেখান: ইউরোপের নবজাগরণ আসলে লাতিন আমেরিকায় রফতানি করে গিলোটিন। গণহত্যার অস্ত্র।

সাম্রাজ্যবাদী মডেলের এই অভিবাসন নীতির উল্টো পিঠে, নিপীড়িত মানুষরাও একটা নতুন দেশে এসে তাকে অনেক কিছু দেন। বিশ্ব ফুটবল পায় পোগবাদের মতো প্লেয়ার, ফ্রান্স পায় বিজয়। তবু ইউরোপ ও আমেরিকা জুড়ে কৃষ্ণাঙ্গরা আক্রান্ত হতে থাকেন, নবনাৎসিরা উল্লাস করতে থাকে, মানবতা দাঁড়িয়ে থাকে এক ট্র্যাজেডির সামনে। অবশ্য এই চ্যালেঞ্জকে পোগবাদের মতো ড্রিবল করেই ইতিহাসকে জয়ী হতে হয়।

দেবাশিস চক্রবর্তী

কলকাতা-৬১

যে কোনও মূল্যে

‘বিদ্যুতে ক্ষতি, অনিশ্চিত ডিএ’ (২৯-৬) শীর্ষক সংবাদটির পরিপ্রেক্ষিতে যুগপৎ উদ্বিগ্ন ও বিস্মিত। সংবাদে প্রকাশ নবান্ন বিদ্যুতে রাজস্ব ক্ষতি ২৮ শতাংশের থেকে ১১ শতাংশে নামিয়ে আনতে না পারলে ডিএ অনিশ্চিত ঘোষণা করেছে। এ ক্ষেত্রে কোনও অজুহাত শোনা হবে না। যে কোনও মূল্যে তা করে দেখাতে হবে। এখন থেকে বিদ্যুৎ শিল্পের যাবতীয় নীতি নির্ধারণে মুখ্য সচিবের অনুমোদন নিতে হবে।

পূর্বতন বিদ্যুৎ পর্ষদ ও বর্তমান বণ্টন ও সংবহন কোম্পানির ছয় দশকের অধিক সময়ের ইতিহাসে অনেক অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় অতিবাহিত হয়েছে। আবার সর্বস্তরের কর্মী-আধিকারিকদের প্রচেষ্টায় তা কেটেও গিয়েছে। তার জন্য কখনও বকেয়া ভাতা পেতে রাজস্ব কমানোর ফতোয়ার মুখোমুখি হতে হয়নি। তাই কর্মীরা উদ্বিগ্ন। কর্মীরা বিস্মিত, যদি সমগ্র নীতি নির্ধারণে মাননীয় মুখ্যসচিব মহোদয়ের অনুমোদন
শেষ কথা হয়, তবে মাননীয় বিদ্যুৎমন্ত্রীর ভূমিকাটি কী! আমি ৩৯ বৎসর পূর্বতন বিদ্যুৎ পর্ষদ তথা বর্তমান বিদ্যুৎ বণ্টন ও সংবহন কোম্পানিতে কাজ করেছি। আমিও বিস্মিত ও ব্যথিত।

বর্তমান সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সংস্থার কর্মীদের ০১-০৭-২০১৬ থেকে সংশোধিত হারে হিসাব করলে ১৭ শতাংশ ডিএ বকেয়া। এটা সর্বকালীন রেকর্ড। অথচ সর্বস্তরের বিদ্যুৎ কর্মী আধিকারিকরা রাজস্ব আদায় প্রশ্নে একযোগে কাজ করে সাফল্য লাভ করেছেন। তাঁদের সাফল্য স্বীকৃত হয়েছে বিদ্যুৎ বণ্টন ও সংবহন কোম্পানির মুখপত্র ‘বিদ্যুৎ বার্ত্তা’-র মে ২০১৮ সংখ্যায়। সেখানে তথ্য-সহ দেখানো হয়েছে, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ২৫.০১ কোটি টাকার তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ১০০.৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে এই সংস্থা। মুখপত্রে L+MV-এর AT+C LOSS ২.৬৪ শতাংশ হ্রাসের জন্য কর্মী ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার জন্য মালদহ-মুর্শিদাবাদ-দ. ২৪ পরগনা জ়োনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ঠিক এই সময়ে কর্মী অফিসারদের হতোদ্যম করে মহার্ঘ ভাতা বন্ধ করার ফতোয়া জারি এই শিল্প, তার সর্বস্তরের কর্মী এবং উপভোক্তাদের পক্ষে ক্ষতিকর।

নবান্নকে এটা বুঝতে হবে যে, পরিকাঠামো আধুনিকীকরণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি কয়েকটি বিষয় বাদ দিলে ব্যাপক হুকিং-ট্যাপিং রাজস্ব ক্ষতির অন্যতম কারণ। হুকিং-ট্যাপিং প্রতিরোধে কর্মী ‘মগরাহাট’-এর ঘটনার পরে অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত। কিছু ক্ষেত্রে এই প্রবণতা এত ব্যাপক যে মাননীয় বিদ্যুৎমন্ত্রীকে হুকিং প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতার আবেদন করতে হয়েছে। তাই ‘যে কোনও মূল্যে’ রাজস্ব আদায় কতটা বাস্তবসম্মত, সন্দেহ থেকেই যায়।

মনীষী কুমার উকিল

কলকাতা-৪৭

ল্যান্ড বন্ড

মানসেন্দু কুণ্ডুর চিঠি (‘চাষির জমি অধিগ্রহণ’, ২০-৭) পড়ে মনে হল, এই রাজ্যে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে যে ল্যান্ড বন্ডের কথা উনি বলেছেন, তাতে দু’টি বাধা আছে।

এক, পশ্চিমবঙ্গে পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ছাড়া সব জমিই তিন ফসলি। কাজেই বছরে এক বার ডিভিডেন্ড-এর বদলে চাষিরা বছরে ফসল বিক্রি করে তিন বার টাকা পাবেন, পাচ্ছেনও। তাই বন্ডের ব্যাপারে উৎসাহী হবেন না। আর ফসল নষ্ট হলে কৃষি বিমা তো আছেই। এখন তো আবার সরকার ন্যায্যমূল্যে ফসল কিনছে।

দুই, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা। এখানে দশটা বড় শিল্প গড়তে গেলে দশ হাজার একর জমি লাগবে। এই বিপুল অঙ্কের ডিভিডেন্ডের টাকা মেটানো, দেনাগ্রস্ত রাজ্য সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে শিল্পের জন্য জমি নিলে যা রেভিনিউ আসবে তাতে অবশ্য ডিভিডেন্ডের টাকা মেটানো সম্ভব। কিন্তু সে গুড়ে বালি। যেখানে একটা ইট গাঁথতে সিন্ডিকেটকে তুষ্ট করতে হয় সেখানে শিল্পপতিরা আসবেন?

কমল চৌধুরী

কলকাতা-১৪০

তফাত যাও

লোকসভায় অনাস্থা বিতর্ক দেখে চূড়ান্ত হতাশ হলাম। বিশেষত হতাশ করেছে শাসক দলের প্রত্যুত্তর। তাঁদের বক্তব্যে সবই ছিল: মশলা, ঝাঁঝ, নাটকীয়তা, হাততালি। কিন্তু উত্তর ছিল কোথায়? কোথায় ছিল যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা, বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ? শুধু শ্লেষ, শ্লাঘা আর হেয় করা। জানি না স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর শরীরী ভাষা আর দক্ষ অভিনয়ের মুন্সিয়ানা এ সভার গরিমা, মর্যাদা কতটা বৃদ্ধি করল। যে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়েছিল— বেকার সমস্যা, গোরক্ষার অজুহাতে হত্যা, নারী সুরক্ষা প্রশ্ন, কালো টাকা, নোটবন্দি, সংখ্যালঘু সমস্যা, কৃষক সমস্যা, দুর্নীতি, অস্ত্র চুক্তি এবং সবার উপরে ঐতিহাসিক নীরবতা— তার জুতসই জবাব পাওয়া গেল না। প্রশ্নগুলো ‘ক্ষুধিত পাষাণ’-এর মেহের আলির মতো লোকসভার অলিন্দে ঘুরে বেড়াতে থাকল। হয়তো আরও অনেক দিন ঘুরে বেড়াবে, আর তার পিছনে জড়ো হবে আরও প্রশ্ন। এখন স্রেফ ‘তফাত যাও’।

সেখ হাফীজুর রহমান

দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান

সেফ ড্রাইভ?

২১ জুলাই কলকাতার রাস্তায় অজস্র হেলমেটহীন বাইক আরোহী চোখে পড়ল। তাঁদের ভিতর অনেকে আবার ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ লেখা গেঞ্জিও পরে ছিলেন! নাঃ, পুলিশ তাঁদের আটকায়নি বা জরিমানাও করেনি, কারণ তাঁদের বাইকে তৃণমূলের পতাকা লাগানো ছিল। তবে কি হেলমেটের থেকে দলীয় ঝান্ডার শক্তি বেশি?

অভিজিৎ ঘোষ

কমলপুর, উত্তর ২৪ পরগনা

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়। চিঠির শেষে পুরো ডাক-ঠিকানা উল্লেখ করুন, ই-মেলে পাঠানো হলেও।

Football Immigrant

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy