শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দিকগুলি আরও ভাল ভাবে চিহ্নিত করতে নতুন ডিজিটাল মূল্যায়ন কর্মসূচি চালু করল কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এক্সামিনেশনস। ‘শাইন ২০২৬’ নামে এই কর্মসূচির পুরো নাম ‘স্টুডেন্ট হলিস্টিক ইনসাইট অ্যান্ড নার্চারিং ইভ্যালুয়েশন’। গত ২১ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচির জন্য নাম নথিভুক্তি প্রক্রিয়া। বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভরশীল মূল্যায়ন পদ্ধতির বাইরে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পড়ুয়ারা কতখানি শিখছে, তা বোঝাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ‘শাইন ২০২৬’ চালু করা হচ্ছে।
তৃতীয়, পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণির পর শিক্ষার্থীদের থেকে যে দক্ষতা প্রত্যাশিত, সেই অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। চতুর্থ, ষষ্ঠ এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে মূল্যায়নের কাজ শুরু হবে।
‘শাইন ২০২৬’ কর্মসূচির আগে গত বছর একটি পরীক্ষামূলক পর্ব চালিয়েছিল সিআইএসসিই। দেশের ২৭৩টি স্কুলের প্রায় এক লক্ষ শিক্ষার্থী সেই পরীক্ষামূলক মূল্যায়নে যোগ দিয়েছিল। সেখানে শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যুক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা, বাস্তব ক্ষেত্রে ধারণার প্রয়োগ এবং বয়সোপযোগী সামাজিক ও আবেগগত বিকাশের মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
সিআইএসসিই-র মূল লক্ষ্য ছিল, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নকে শুধুমাত্র বার্ষিক পরীক্ষার ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের পড়াশোনাকে আরও ধারাবাহিক, সামগ্রিক এবং অর্থবহ করে তোলা।
আরও পড়ুন:
আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর-এর মধ্যে মূল্যায়ন পর্ব চালু হবে। এর মাধ্যমে কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা ভাল করছে এবং কোন বিষয় বা ধারণা বুঝতে তাদের অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে পারবে স্কুলগুলি। শিক্ষার্থীদের বয়স ও শিক্ষণস্তরের ভিত্তিতে মূল্যায়নের ধরনেও থাকবে পার্থক্য। চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য থাকবে খেলাভিত্তিক মূল্যায়ন। ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করানো হবে। ষষ্ঠ শ্রেণির ক্ষেত্রে পঞ্চম শ্রেণি শেষে প্রত্যাশিত দক্ষতা এবং নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে অষ্টম শ্রেণি শেষে প্রত্যাশিত দক্ষতার ভিত্তিতে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে।