স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছাড়াই সরাসরি পিএইচডি করার সুযোগ দিতে চলেছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুসারে আসন্ন শিক্ষাবর্ষ থেকে চার বছরের স্নাতক পাঠক্রম সম্পূর্ণ করা যোগ্য পড়ুয়াদের এই সুযোগ দেওয়া হবে। ভারতীয় ডিগ্রিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে চার বছরের স্নাতক পাঠক্রমের প্রথম ব্যাচের পড়ুয়ারা এই সুবিধা পাবেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হিসাবে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে। যাঁরা এই শিক্ষামূলক প্রকল্প বেছে নেবেন, তাঁদের বাস্তব জীবনের কোনও সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক পাঠক্রমের নতুন কাঠামোর আওতায় চার বছরের স্নাতক পাঠক্রম চালু করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম ব্যাচে মোট ৭৫,৯৪৮ জন পড়ুয়া ভর্তি হয়েছিলেন। তবে তাঁদের সকলেই চার বছর পড়াশোনা চালিয়ে যাননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তিন বছর পড়াশোনা সম্পূর্ণ করে ৪০,০০৫ জন পড়ুয়া পাঠক্রম থেকে বেরিয়ে যান। অন্য দিকে, ৩৫,৯৪৩ জন চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
চতুর্থ বর্ষে থাকা পড়ুয়াদের মধ্যে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছরের স্নাতকোত্তর পাঠক্রমে ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন ১২,১১১ জন। যা চতুর্থ বর্ষের মোট পড়ুয়ার ৩৪.২৭ শতাংশ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চার বছরের স্নাতক পাঠক্রমের চতুর্থ বর্ষ সম্পূর্ণ করার পর ন্যূনতম ৭.৫ সিজিপিএ থাকা পড়ুয়ারা সরাসরি পিএইচডি-তে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তফসিলি জাতি ও উপজাতি পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা রাখা হয়েছে ৭ সিজিপিএ। তবে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্ট করেছে, সরাসরি পিএইচডি-তে ভর্তির এই সুযোগ বর্তমানে শুধুমাত্র ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সিজিপিএ পূরণ করা চতুর্থ বর্ষের পড়ুয়ারাই এই সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন