Advertisement
E-Paper

প্রযুক্তির দুনিয়ায় ক্রমশ চাহিদা বাড়ছে অ্যাপ ডেভেলপারদের, কী ভাবে নিযুক্ত হওয়া যায় এ পেশায়?

যাঁরা নিত্য নতুন ‘অ্যাপ’ তৈরি করেন, তাঁদের বলা হয় অ্যাপ ডেভেলপার। তাঁরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন ‘সি’, ‘সি++’, ‘জাভা’, ‘সুইফট্’, ‘কোটলিন’— এই সমস্ত কিছু ব্যবহার করে মুঠোফোনের দুনিয়ায় সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে, এমন ‘অ্যাপ’ তৈরি করে থাকেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫৮
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

প্রযুক্তি নির্ভরতার যুগে কেনাকাটা, ব্যাঙ্কিং, বিনোদন বা পড়াশোনা— দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজের জন্যই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা ‘অ্যাপ’-এর প্রয়োজন। ফলে বিশ্বজুড়ে ক্রমশ বৃদ্ধি হচ্ছে দক্ষ অ্যাপ ডেভেলপারের চাহিদা।

মোবাইল অ্যাপ তৈরির কারিগর হতে গেলে ঠিক কী ধরনের পড়াশোনা করতে হয় এবং কোথায় মিলবে এ সংক্রান্ত কোর্স করার সুযোগ— রইল তার বিস্তারিত।

অ্যাপ ডেভেলপারের কাজ কী

যাঁরা নিত্য নতুন ‘অ্যাপ’ তৈরি করেন, তাঁদের বলা হয় অ্যাপ ডেভেলপার। তাঁরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন ‘সি’, ‘সি++’, ‘জাভা’, ‘সুইফট্’, ‘কোটলিন’— এই সমস্ত কিছু ব্যবহার করে মুঠোফোনের দুনিয়ায় সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে, এমন ‘অ্যাপ’ তৈরি করে থাকেন। সাধারণত ‘অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেম’-এর জন্য বেশি ‘অ্যাপ’ তৈরি করা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে অ্যাপেলের তরফে ‘আইফোন অপারেটিং সিস্টেম’-এর (আইওএস) চাহিদা বাড়তে থাকায়, বেশ কিছু ‘অ্যাপ’ আইওএস-এর সাহায্যেও যাতে মানুষ ব্যবহার করতে পারে, তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের জন্য কী কী পড়তে হয়

অ্যাপ ডেভলপমেন্টের জগতে ভবিষ্যৎ গড়তে হলে মূলত কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ওপর দক্ষতা অর্জন করতে হয়।

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রি কোর্স

স্নাতক: দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ (গণিত-সহ) থাকলে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিটেক অথবা ব্যাচেলর অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বা কম্পিউটার সায়েন্সে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ডিগ্রি পড়া যায়।

স্নাতকোত্তর: বিসিএ বা বিজ্ঞান শাখার স্নাতকের পর মাস্টার অফ কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন বা এমটেক করা যেতে পারে।

ডিপ্লোমা কোর্স: মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের পর পলিটেকনিক কলেজগুলি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ডিপ্লোমা করেও অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে প্রবেশ করা যায়।

কোথায় কোথায় রয়েছে পড়ার সুযোগ?

দেশের নানা আইআইটি, এনআইটি এবং আইআইআইটি প্রতিষ্ঠানগুলিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও আইটি ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় এই বিষয়ে পড়াশোনা হয়। রাজ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি-সহ আরও নানা প্রতিষ্ঠানেই সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

কী ভাবে মিলবে পেশায় প্রবেশের সুযোগ

পাঠক্রমের বাইরে কাজ শেখার সুযোগ পেতে হলে পড়াশোনার পাশাপাশি পেশাদার কোর্স করতে হয় পড়ুয়াদের। সেই কোর্সগুলিতে হাতে-কলমে কাজ শেখার সুযোগও থাকে। স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ‘মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট’, ‘অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট’ নামক কোর্সগুলি করার পর সরাসরি কাজের সুযোগও পেতে পারেন দক্ষ পড়ুয়ারা।

কাজের সুযোগ

মুঠোফোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত পৃথিবীতে ‘অ্যাপ ডেভেলপার’দের চাহিদা রয়েছে যথেষ্ট। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহাবস্থানে এই পেশা হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয়। বিভিন্ন দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থার পাশাপাশি বহুজাতিক সংস্থাতেও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ করা হয় নিয়মিত ভাবে। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শিক্ষানবিশ থেকে শুরু সরাসরি চাকরির সুযোগ দেওয়া হয় সকলকে। সে ক্ষেত্রে সঠিক যোগ্যতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে পেশায় প্রবেশের সুবিধা রয়েছে।

বেতন কত

এই পেশায় শিক্ষানবিশ কিংবা সরাসরি চাকরির ক্ষেত্রে বেতনক্রম যথেষ্ট আকর্ষণীয়। ছোট থেকে মাঝারি সংস্থায় কাজের ক্ষেত্রে ৫-৬ অঙ্কের বেতন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে দক্ষ ব্যক্তিদের। অভিজ্ঞতার নিরিখে সেই বেতনক্রম, সংস্থা অনুযায়ী আরও বেড়ে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন ‘মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার’ বছরে গড়ে ৪ থেকে ১২ লক্ষ টাকা আয় করে থাকেন।

Mobile App

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy