প্রশ্নফাঁস রুখতে এক দিনে পরীক্ষা না-ও হতে পারে। তার বদলে পাঁচ থেকে ছ’দিন পর্যন্ত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) নিতে পারে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। আয়োজক সংস্থার তরফে সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বেসরকারি সংস্থাকেও পরীক্ষাকেন্দ্র হিসাবে বেছে নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
একটি জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এনটিএ-র পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা আয়োজনের জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনও খামতি না থাকে, তার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এনটিএ-র সার্বিক পরিকাঠামোই বদলে ফেলা হবে। ওই কাজ চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর জন্য আলাদা করে ৫০টি পদও অনুমোদন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের তরফে ওই প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।
৩ মে নিট ইউজি-র পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পরই প্রবেশিকা পদ্ধতিতে রদবদল করা যায় কিনা, তা নিয়ে একাধিক বার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বৈঠক করা হয়েছে। লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির তরফে এই প্রস্তাবনাও দেওয়া হয়েছিল যে, ওই পরীক্ষায় খাতায় কলমের পরিবর্তে যদি কম্পিউটার বেসড টেস্ট (সিবিটি) পদ্ধতিতে নেওয়া হয়।
১৫ মে নিট পুনঃপরীক্ষার দিন ঘোষণার পরই ওই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে, শুধু পরীক্ষা পদ্ধতিতেই নয়, রদবদল করা হবে প্রবেশিকা আয়োজনের কিছু নিয়মেও। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি মাথায় রেখে নজরদারি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০জনের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে, এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্তেরা অধরা। এই বিষয়ে এনটিএ-র এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধমূলক ঘটনায় কোনও অভিযুক্তই রেহাই পাবেন না।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় এবং নবোদয় বিদ্যালয়ের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি, কিছু বেসরকারি সংস্থাতেও পরীক্ষা কেন্দ্র হতে চলেছে। সব মিলিয়ে ৫০০টি শহরের ১,০০০-এরও বেশি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রতি দিন প্রায় ৫০০ জনের পরীক্ষা নেওয়া হবে, আলাদা আলাদা সময়ে।