Advertisement

নবান্ন অভিযান

অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নবান্নের কড়া নির্দেশিকা: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা বিজ্ঞপ্তিতে

গত ২২ মার্চ রবিবার নবান্ন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে কোনও প্রকার অশান্তি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৩:২০
Nabanna issues strict guidelines to ensure free and peaceful elections; ‘zero tolerance’ policy announced in notification

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চাই, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সর্বস্তরের প্রশাসনকে বার্তা নবান্নের । —ফাইল চিত্র।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য প্রশাসন। নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ অবাধ, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর ও আধিকারিকের জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করলেন মুখ্যসচিব। গত ২২ মার্চ রবিবার নবান্ন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে কোনও প্রকার অশান্তি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।

ভোটে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মুখ্যসচিবের জারি করা এই নির্দেশিকায় ৬ দফা বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এগুলি হল: ১. হিংসামুক্ত পরিবেশ: নির্বাচনের সময় যে কোনও ধরনের হিংসা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ২. ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ: কোনও ভোটারকে যাতে কেউ ভয় দেখাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. প্রলোভনমুক্ত নির্বাচন: ভোটদাতাদের কোনও প্রকার উপঢৌকন বা টাকা দিয়ে প্রভাবিত করা যাবে না। ৪. ছাপ্পা ভোট রুখতে কড়াকড়ি: জাল ভোট বা ‘ছাপ্পা’ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হচ্ছে। ৫. বুথ দখল প্রতিরোধ: বুথ জ্যামিং বা ভোটদান কেন্দ্রে অবৈধ জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৬. ভোটারদের যাতায়াতে বাধা নয়: ‘সোর্স জ্যামিং’ বা ভোটারদের বাড়ি থেকে বেরোতে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৬. কড়া নজরদারিতে সরকারি কর্মীরা: বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি যাতে কোনও ভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের এই বিষয়ে বিশেষ ভাবে সচেতন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবান্ন জানিয়েছে, এই নির্দেশিকা প্রতিটি সরকারি দফতর, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিটি কর্মীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এমনকি, এই নির্দেশিকা নিচুতলা পর্যন্ত পৌঁছেছে কি না, তার প্রমাণ হিসেবে আগামী ২৫ মার্চ বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে (wblacompliance@gmail.com) কনফার্মেশন রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের এই তৎপরতা দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিগত নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই এ বার আগেভাগে সতর্ক হচ্ছে রাজ্য। প্রতিটি ভোটার যাতে কোনও ভয় বা চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। নির্দেশ অমান্য করলে বা আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক বা কর্মীর বিরুদ্ধে যে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বার্তাও এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Nabanna Zero Tolerance Policy

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy