শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে অনেক বাঙালি বাড়িতেই উপোস করার চল রয়েছে। শিবের মাথায় জল ঢেলে কেউ কেউ উপোস ভাঙেন, কেউ কেউ আবার সারা দিন নির্জলা উপোস করেন। ধর্ম আচরণের অঙ্গ হিসাবে উপবাস করার প্রথা সব ধর্মের সঙ্গেই জুড়ে আছে। উপোস করে পুজো দিলেই কি ভগবান প্রসন্ন হবেন আর অন্যথায় নয়? এ বিতর্ক বহু দিনের। কে কী ভাবে পুজো করে সন্তুষ্ট হবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে উপোস করলে কিন্তু শরীরের বাড়তি যত্ন নিতে হয়। উপোস ভাঙার সময় কী খাচ্ছেন, তার উপরেও সুস্থ থাকার বিষয়টি অনেকটা নির্ভর করে।
উপোস ভাঙার পর কী কী করবেন না?
বেশি খাবেন না: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পরে প্রচুর পরিমাণে খাবার খাওয়ার ইচ্ছা জাগতেই পারে। কিন্তু অতিরিক্ত খাবার আপনার পরিপাকতন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তাই হালকা খাবার দিয়ে শুরু করুন এবং আরও কিছু খাওয়ার আগে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিন।
ভাজাভুজি চলবে না: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর ডুবো তেলে ভাজা খাবার বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার হজম করা কঠিন। এগুলির কারণে পেট ফাঁপা, বদহজম ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। উপোসের দিনে অনেকেই লুচি খান। এমন ভুল না করাই ভাল।
আরও পড়ুন:
জল খেতে ভুললে চলবে না: উপোস থাকার পর শরীরে ডিহাইড্রেশন হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। তাই উপোস ভাঙার পর অল্প অল্প করে বার বার জল খেতে হবে। এ ছাড়া ডাবের জল, দইয়ের ঘোলও খাওয়া যেতে পারে।
খুব বেশি মিষ্টি খাওয়া চলবে না: অনেকেই উপোস ভাঙেন শরবত খেয়ে। মিষ্টি বা মিষ্টি পানীয় দিয়ে খাওয়া শুরু করলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই এই ভুল না করাই ভাল। উপোসের পর মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করলে খেজুর দিয়ে তৈরি মাখানার পায়েস, ফলের রায়তা, কলার স্মুদি খেতে পারেন। সাবুমাখা হোক কিংবা ঘোল— চিনি ব্যবহারের পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করুন।
বারে বারে চা, কফি নয়: খাবার না খেলেও উপোসের সময় অনেকেই বার বার চা, কফি খান। খালি পেটে অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ করলে কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যাসিডিটি বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। উপোস ভাঙার পরেও অনেকে চা, কফি খান। গ্যাস, অম্বলের ঝুঁকি কমাতে উপোসের ভাঙার পরে কিছু খেয়ে তার পরেই চা বা কফি খাওয়া ভাল।
Post: উপোস ভাঙার সময় এই ভুলগুলি করছে না তো?