মুখের যত্নে অনেকেই ত্রুটি রাখেন না। দামি ফেশিয়াল, ক্লিনআপ, স্পা— কত কিছু। কিন্তু পা? সেই ন’মাসে ছ’মাসে একবার পেডিকিয়োর, বাকি সময় শুধু একটু ফুটক্রিম বা লোশন ব্যবহার করেই দায় সারা। অথচ সারাদিনের সব ধকল এই পা দুটোই সামলায়। আর এই অযত্নেরই ফল পায়ের তলায় সেই শক্ত, গোল, যন্ত্রণাদায়ক কড়া। হাঁটতে গেলেই খোঁচা লাগে। তবে শুধু অযত্নই কি একমাত্র কারণ?
পায়ের তলায় কড়া কোনও সংক্রমণ নয়। জুতোর ঘষা লেগে বা পায়ের এক জায়গায় ক্রমাগত বেশি চাপ পড়লে শরীর নিজেকে বাঁচাতে সেই জায়গার চামড়াকে শক্ত ও মোটা করে দেয়। সেটাই কড়া।
২. কড়া আর আঁচিল এক নয়
এই দুটিকে গুলিয়ে ফেললে চিকিৎসা ভুল হবে। কড়ায় চাপ দিলে ব্যথা হয়। কারণ ওটি চাপ থেকেই তৈরি। মাঝখান শক্ত ও গোল। আর আঁচিল হয় ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে। চাপ দিলে ব্যথা নাও হতে পারে, কিন্তু আঁচিলের মাথায় অনেক সময়ে ছোট কালো দাগ দেখা যায়। তবে শুধু দেখে কড়া না আঁচিল, বলা ঠিক নয়, ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভাল।
কড়া বাড়িতে কী করে ঠিক করবেন?
জুতো বদলান: সঠিক মাপের, আরামদায়ক জুতো পরুন। আঁটোসাঁটো জুতো একদম নয়।
নরম ইনসোল ব্যবহার: চাপ কমাতে জুতোর ভিতরে নরম ইনসোল বা কড়ার জন্য বিশেষ প্যাড দিন। জুতোর ইনসোল বদল না করলে পায়ের সমস্যা বাড়বে।
পা ভিজিয়ে রাখুন: হালকা গরম জলে ১০-১৫ মিনিট পা ভিজিয়ে চামড়া নরম করুন। তার পর ঝামা পাথর দিয়ে আলতো করে ঘষে পরিষ্কার করুন।
ব্লেড-কাঁচি নয়: রেজর বা কাঁচি দিয়ে শক্ত চামড়া কাটার চেষ্টা একদম করবেন না। এতে সংক্রমণ হতে পারে।
কর্ন ক্যাপ লাগাবেন? সাবধান!
অনেকে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড দেওয়া কর্ন প্লাস্টার বা কর্ন ক্যাপ ব্যবহার করেন কড়া নিরাময়ের জন্য। কিন্তু ডায়াবিটিস, পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যা বা পায়ে অনুভূতি কম থাকলে এই ধরনের প্লাস্টার ব্যবহার না করাই ভাল। এতে ক্ষত হয়ে পায়ে বড় ঘা হতে পারে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
১) বার বার কড়া হলে বা ব্যথায় হাঁটতে না পারলে
২) কড়ার চারপাশ লাল হয়ে গেলে
৩) পুঁজ বেরোলে বা নতুন ক্ষত হলে
ডায়াবিটিস থাকলে পায়ের যে কোনও নতুন ক্ষত অবহেলা না করাই ভাল। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখানোই ভাল। কড়া কোনও ছোট সমস্যা নয়, বিশেষ করে ডায়াবেটিকদের জন্য। নিজে কাটাছেঁড়া না করে সঠিক জুতো, পায়ের যত্ন আর প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।