দূষণ থেকে মুক্তি পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। তার উপর সামনেই কালীপুজো। ইতিমধ্যেই চারদিকে বাজি ফাটতে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে যে শহরেই থাকুন না-কেন, দূষণ গ্রাস করবেই। এমনকি ঘরও এই দূষণ থেকে সুরক্ষিত নয়। দূষিত বাতাসের বলয় ঘিরে রেখেছে সবাইকে, যার মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা, যা খালি চোখে দেখা যায় না। সেগুলি শরীরে প্রবেশ করছে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফুসফুস এবং হৃৎপিন্ড।
বাইরের কথা না হয় বাদ দেওয়া হল। কিন্তু দূষণের হাত থেকে ঘরকে রক্ষা করবেন কী ভাবে? অদৃশ্যই হল আসল বিপদ। চোখে দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু সাইনাস, ফুসফুস ঠিকই টের পাচ্ছে। জেনে নিন ঘরের ৪টি বড় শত্রু, যা থেকে ছড়াচ্ছে দূষণ। স্বাস্থ্যকর ঘর মানে শুধু পরিষ্কার করা নয়, লুকিয়ে থাকা দূষণের উৎসগুলিও চিহ্নিত করাও জরুরি।
১. হেঁশেলে লুকিয়ে বিপদ
পকোড়া ভাজা বা চিকেন গ্রিল করার সময়ে যে ধোঁয়া বার হয়, সেটা শুধু স্বাদ নয়, সেটা হল ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার। ভাজাভুজি, গ্রিলে ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম কণা তৈরি হয়, যা ফুসফুসে ঢোকে। গ্যাস স্টোভ থেকে নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড বার হয়, যা শ্বাসনালিতে জ্বালা ধরায়। তাই এ সব থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি। রান্না শেষ হওয়ার পর নয়, রান্না করার সময়েই চিমনি বা এক্সহস্ট ফ্যান চালিয়ে রাখুন। রান্নাঘরের জানালা খুলে ক্রস-ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করুন।
২. ফুলের গন্ধযুক্ত ক্লিনার মোটেও নিরীহ নয়
ঘরকে ফুলের মতো সুবাসিত করতে যে স্প্রে, ব্লিচ, রুম ফ্রেশনার আর সুগন্ধি মোমবাতি ব্যবহার করেন, সেগুলিতে থাকে ভোলাটাইল অর্গ্যানিক কম্পাউন্ড। এগুলি চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্টের কারণ, বিশেষ করে যাঁদের অ্যাজ়মা আছে। এ ক্ষেত্রে কর্পূর, ধুনোর মতো প্রাকৃতিক সুগন্ধি ব্যবহার করাই শ্রেয়।
৩. পর্দা-কার্পেটও আদতে ভিলেন
বিছানা, পর্দা, কার্পেট, সোফা— সবই ধুলো, পরাগরেণু, ডাস্ট মাইটের আস্তানা। রাতে ঘুম থেকে উঠে হাঁচি-কাশি হলে সেটা ঠান্ডা লেগে নয়, বিছানাই কারণ হতে পারে। তাই ঘন ঘন গরম জলে চাদর, পর্দা, কার্পেট ধুতে হবে, ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করুন, খাটের তলা এবং পিছনের কোণ পরিষ্কার করুন।
৪. দেওয়ালের স্যাঁতসেঁতে দাগ থেকেও বিপদ
বেসিনের নীচে লিক, বাথরুমের সিলিং-এ কালো দাগ— এটা শুধু মেনটেনেন্সের সমস্যা নয়। স্যাঁতসেঁতে জায়গায় জন্মায় ছত্রাক বা মোল্ড। এর থেকেও অ্যাজ়মা ও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়তে পারে। লিকগুলি দ্রুত সারানোর ব্যবস্থা করুন, শৌচালয়ে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন, জামাকাপড় ভাল করে না শুকিয়ে স্তূপ করে ফেলে রাখবেন না।