স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ খাবারের সঙ্গে শসা খেয়েই থাকেন। তবে বেশির ভাগ মানুষই শসা খাওয়ার আগে খোসা ছাড়িয়ে ফেলে দেন। অনেকে মনে করেন, খোসাসমেত শসা মানেই তা খেতে তেতো লাগবে। কিন্তু পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ পাঞ্চাল বলছেন, শসার খোসা ফেলে দেওয়ার অর্থ হল সবচেয়ে পুষ্টিকর অংশটাই ময়লার বালতিতে ফেলে দেওয়া। জানুন, খোসা-সহ শসা খাওয়া কেন স্বাস্থ্যকর?
শ্বেতার মতে, শসার খোসাতেই থাকে এর বেশির ভাগ ফাইবার, সিলিকা, ভিটামিন কে আর ভরপুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। খোসা ছাড়িয়ে ফেললে পড়ে থাকে শুধু জল, আর প্রায় কিছুই না।
১. ফাইবারের ভান্ডার: খোসায় থাকে অদ্রাব্য ফাইবার, যা হজম ভাল করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং পেট অনেকক্ষণ ভর্তি রাখে। ওজন কমাতেও সাহায্য করে।
২. ত্বক, চুল ও হাড়ের জন্য: খোসায় থাকা সিলিকা ত্বক, চুল ও অস্থিসন্ধির জন্য বেশ উপকারী। আর ভিটামিন কে হাড় শক্ত করে ও রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরি করে ত্বকের জেল্লা বাড়ায়।
৩. অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর: খোসায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, যা বার্ধক্য ও নানা রোগের কারণ।
তা হলে কখন খোসা ছাড়াবেন?
একটাই ক্ষেত্রে খোসা ছাড়া উচিত, যখন শসাটি মোম বা ওয়্যাক্স দিয়ে মোড়া থাকে। বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক চকচকে শসা দীর্ঘ দিন ভাল রাখার জন্য ওয়্যাক্স বা মোমের পরত লাগিয়ে বিক্রি করা হয়। সে ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ, গরম জলে ভাল করে ধুয়েই শসা খাওয়া উচিত। অনলাইনে কেনাকাটা করলে সাবধান থাকুন। বাজার থেকে টাটকা শসা দেখে কিনে আনলে তা খোসা সমেতই খেতে পারেন। ছোট্ট এই অভ্যাস বদলালেই অনেক বেশি পুষ্টি পাবে শরীর।