পেশিবহুল সুঠাম গড়ন চাই। জিমের পাশাপাশি তাই বাজারচলতি রকমারি প্রোটিন শেকে চুমুক দিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। পুষ্টিবিদেরা প্রমাদ গুনছেন সেখানেই। প্রোটিন পাউডারে যে যে উপকরণ থাকছে, তার কতটা শরীরের জন্য উপযোগী তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন থাকছে, তেমনই কতটা প্রোটিন দরকার, সেই প্রশ্নও থাকছে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার বা প্রোটিন শেক নয়, পুষ্টিবিদেরা বলছেন, প্রোটিনের চাহিদা মিটুক চেনা খাবারেই। সেই তালিকায় কি নাম লেখাতে পারে ছাতুর শরবত?
ছাতু খাওয়ার চল নতুন নয়। ছোলার ডাল বা শুকনো খোলায় ভাজা ছোলা পেষাই করেই তৈরি হয় ছাতু। ডালের সব উপকারী গুণ যেমন এতে বিদ্যমান, তেমনই খাওয়ার আগে রান্নার জন্য সময়ও বেশি লাগে না। ছোটবেলায় ফিরে তাকালে ছাতুর শরবত, ছাতু মাখা কিন্তু প্রায়ই তৈরি হত বাড়িতে। বিকেলের মুড়িমাখায় একমুঠো ছাতুও মিশিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু দিনে দিনে জাঙ্ক ফুডের দাপটে ছাতুর মতো উপকারী খাবারও কৌলীন্য হারিয়েছে।
ছাতুর এমন কী গুণ আছে?
ছাতুতে প্রোটিনের পরিমাণ যেমন বেশি, তেমনই কার্বোহাইড্রেটও পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম মাছে ১৬-২০ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়, সেখানে ১০০ গ্রাম ছাতুতে ২০-২৫ গ্রাম প্রোটিন থাকে। তাই প্রোটিনের উৎস হিসাবে ছাতু খুবই উপকারী। বিশেষত যাঁরা নিরামিষাশী, তাঁরা রোজকার খাবারে কিছুটা ছাতু রাখলে তা প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে। অন্য দিকে, ১০০ গ্রাম ছাতুতে কার্বোহাইড্রেট থাকে প্রায় ৬০-৬৫ গ্রাম। ফলে শক্তির জোগানও দেয়। কিন্তু ছাতুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুব ভাল খাবার হতে পারে ছাতু। এক দিকে শক্তির জোগান দেয় আবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় রক্তে গ্লুকোজ়ের পরিমাণও থাকে নিয়ন্ত্রণে।
এ ছাড়াও ছাতুতে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ়, জ়িঙ্ক ইত্যাদি খনিজের চাহিদাও পূরণ হয়ে যায়। তাই মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টসের জন্যও ভরসা রাখা যায় ছাতুর উপরে। এতে রয়েছে ফাইবারও।
শারীরচর্চার পরে কতটা উপযোগী ছাতু
শারীরচর্চার পর পেশির যে ক্ষয় হয় তা পূরণের জন্য প্রোটিনের দরকার। তা ছাড়া, শারীরচর্চার সময়ে ঘামের ফলে শরীর থেকে খনিজ বেরিয়ে যায়। জলশূন্যতার পাশাপাশি ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। ছাতুর শরবত হতে পারে সমাধান।
‘মন্টিনিগ্রেন জার্নাল অফ স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন’-এর প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, ছাতুতে রয়েছে জরুরি অ্যামিনো অ্যাসিড, যা পেশির ক্ষয় সারাতে কার্যকর। শারীরচর্চার সময় পেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শক্তিও ফুরিয়ে আসে। ফলে শরীরের দ্রুত প্রোটিন এবং শক্তির দরকার হয়। ছাতুতে প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেট দুই-ই রয়েছে। তবে শারীরচর্চা কে, কী ভাবে করছেন তার উপর নির্ভর করবে ছাতু প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে কি না। তবে যাঁরা নিয়মিত ওজন তোলেন, পেশিবহুল শরীরের জন্য ব্যায়াম করেন, তাঁদের জন্য বাড়তি এবং উচ্চমানের প্রোটিনের প্রয়োজন হবে।
শুধু ছাতুর শরবত নয়, ফল দিয়ে স্মুদি-সহ নানা ভাবে ছাতু খাওয়া যেতে পারে।