এমনিতে সুগন্ধি মশলা হিসাবে জায়ফলের খ্যাতি দুনিয়াজোড়া। শুধু মশলাদার ভারতীয় রান্নায় নয়, যাঁরা কেক-পেস্ট্রি-পাই বানান, সেই বেকিংয়ের দুনিয়াতেও জনপ্রিয় ‘নাটমেগ’। তবে এ মশলার সমাদর রয়েছে রান্নাঘরের বাইরেও। বিকল্প চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশ্বাসীরা মনে করেন, জায়ফলের ঔষধি গুণ নানা শারীরিক সমস্যার সমাধানেও কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে পুরুষেরা যে ধরনের সমস্যায় ভোগেন, তার কয়েকটির প্রতিকার হতে পারে ওই মশলায়।
উদ্বেগ হ্রাস ও ঘুমের উন্নতি
অধিকাংশ পরিবারে পুরুষের উপরেই থাকে সংসারের খরচ চালানো এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দায়। ফলে কর্মক্ষেত্র, উপার্জন, সংসারের নানা চিন্তার চাপে উদ্বেগে ভোগেন পুরুষেরা, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্যের উপরে। ঘুমের সমস্যায় ভোগেন কেউ। কেউ বা শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জায়ফলে থাকা কিছু উপাদান, মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ এবং ‘ডোপামিন’ হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। ফলে মন শান্ত থাকে। অনিদ্রা দূর হয়। ভাল থাকে শরীরও।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস
মহিলাদের তুলনায় পুরুষের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা থাকে সামান্য বেশি। জায়ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত খেলে হৃদরোগ দূরে থাকে।
যৌন স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জায়ফল প্রাকৃতিক অ্যাফ্রোডিসিয়াক হিসাবে কাজ করে। এটি রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। ফলে স্বাভাবিক যৌন ইচ্ছা বজায় থাকে। কিছু গবেষণায় ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, এতে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখনও পর্যন্ত মানুষের উপর ওই পরীক্ষা করা হয়নি। তবে গবেষকেরা দেখেছেন, যেহেতু জায়ফল মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে এবং ওই বিষয়গুলিও যৌন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে তাই, পরোক্ষে তা কাজে লাগতে পারে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি
জায়ফল হজমক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট লিভার ও কিডনি থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। গ্যাস, আমাশয় বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাও দূরে রাখে।
কী ভাবে খাবেন?
প্রতিদিন এক চিমটে অর্থাৎ এক গ্রামেরও কম জায়ফলের গুঁড়ো দুধে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে নিয়মিত কোনও খাওয়ার অভ্যাস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সতর্কতা
জায়ফলের বহু উপকারিতা থাকলেও এটি অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া একদমই উচিত নয়। দৈনিক এক চিমটের বেশি জায়ফল সেবন করলে মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা হজমে বিষক্রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।