প্রথমে তাঁর দিকে ছোড়া হল অ্যাসিড। তার পরে ধারালো অস্ত্রের পরপর কোপ। কলকাতার মেয়ে মধুমিতা (২৬) এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি। গত কাল সকালে বহু মানুষের চোখের সামনে মধুমিতার (পদবি জানা যায়নি) এই হাল করেছেন তাঁরই স্বামী বেঙ্কটেশন। তামিলনাড়ুর বেঙ্কটেশনের সঙ্গে দু’বছর আগে মাদুরাইতে বিয়ে হয়েছিল মধুমিতার। ইদানীং অবশ্য তাঁরা আলাদা থাকছিলেন।
বেঙ্গালুরুর জে পি নগর থার্ড ফেজ়ের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে বছর দেড়েক ধরে নার্সের চাকরি করেন মধুমিতা। গত কাল সকাল সওয়া ৯টা নাগাদ প্রাতরাশ করতে ক্লিনিক থেকে বেরোন তিনি। সেই সময়েই মোটরবাইকে এসে পৌঁছন বেঙ্কটেশন। হেলমেট পরা অবস্থায় দৌড়ে তাড়া করেন স্ত্রীকে। মধুমিতা ছোটেন ক্লিনিকের বেসমেন্টের পার্কিং লটের দিকে। তাঁকে ধরে ফেলে বেঙ্কটেশন প্রথমে অ্যাসিড ছোড়েন স্ত্রীর গায়ে। তার পরে চুলের মুঠি ধরে ঘাড়ে কোপাতে থাকেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে।
আশেপাশের পথচারীরা মধুমিতাকে বাঁচাতে এগোনোর চেষ্টা করলেই তাঁদের দিকে অস্ত্র উঁচিয়ে তেড়ে যাচ্ছিলেন বেঙ্কটেশন। শেষে তাঁরা দূর থেকে ঢিল ছুড়েই আততায়ীকে নিরস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাতেও কাজ না-হওয়ায় এগিয়ে আসেন কাছেই মোতায়েন ট্রাফিক পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টর। আবার তেড়ে যান বেঙ্কটেশন। কিন্তু হাতের পুলিশি লাঠির ঘায়ে তাঁর অস্ত্র ফেলে দেন সাব-ইন্সপেক্টর। ধরে ফেলা হয় বেঙ্কটেশনকে। মধুমিতাকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনার নেপথ্যে সাংসারিক অশান্তি রয়েছে বলে সন্দেহ করা হলেও বেঙ্কটেশনকে জেরা করে আরও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। প্রমাণ নিয়ে চিন্তা নেই। মোবাইলে ভিডিয়ো উঠেছে অজস্র। সংবাদ সংস্থা