দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার ডেকেও সাড়া মেলেনি স্বামীর। শেষপর্যন্ত কোনওক্রমে দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে ওই মহিলা দেখেন, সিলিং থেকে ঝুলছে তাঁর স্বামীর দেহ! এ হেন দৃশ্য দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে ওঠেন ওই মহিলা। মায়ের চিৎকারে চলে আসে তাঁদের ছেলে। অভিযোগ, বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে মোবাইল বার করে দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে থাকে ওই নাবালক।
গুরুগ্রামে এক বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করতেন সঞ্জীব যাদব। অমৃতসরের বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে সুরতনগরে স্ত্রী মনপ্রীত কউর এবং এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে থাকতেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই বাড়ি থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সঞ্জীবের দেহ। তাঁর বোন কিরণের অভিযোগ, সঞ্জীব এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে দিন কয়েক ধরেই অশান্তি চলছিল। বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছেন বৌদি। আর সেই কারণে দাদা আত্মঘাতী হয়েছেন বলে দাবি কিরণের।
পুলিশ সূত্রে খবর, সঞ্জীব এবং মনপ্রীতের একটি সাত বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার পরে মনপ্রীতই ফোন করে আত্মহত্যার বিষয়টি জানান সঞ্জীবের বাবা-মাকে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সঞ্জীব কোনও কারণে আত্মহত্যা করেছেন। তবে সঞ্জীবের বাবার দাবি, মনপ্রীত অন্যদের সঙ্গে মিলে তাঁর পুত্রকে খুন করার ষড়যন্ত্র করছিলেন!
আরও পড়ুন:
কিরণের দাবি, তাঁর দাদা কেন আত্মহত্যা করলেন, তার পারিপার্শ্বিক দিকগুলিও খতিয়ে দেখা উচিত। ফ্যান থেকে সঞ্জীবের ঝুলন্ত দেহের ভিডিয়ো সন্দেহজনক বলে দাবি কিরণের। সঞ্জীবের পরিবারের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মনপ্রীতকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, অম্বালার বাসিন্দা মনপ্রীত। ২০১৮ সালে সঞ্জীবের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। প্রায় আট বছর আগে কর্মসূত্রে গুরুগ্রামেই এক সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীন দু’জনের আলাপ। আলাপ থেকে বাড়ে বন্ধুত্ব। গড়ে উঠেছিল প্রেমের সম্পর্ক।