E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

এখন আটকালেও এর পর? চিন্তায় বিজেপি নেতৃত্ব

আগামী দিনে যদি ফের ছাত্র-যুবরা যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক দেন, কী হবে? কত দিন এ ভাবে সরকারের পক্ষেই অঘোষিত বন্‌ধ ডেকে আটকানো যাবে বিক্ষোভকারীদের।

অনমিত্র সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৫৫
ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে রাজপথ।

ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে রাজপথ। — ফাইল চিত্র।

আজ তো আটকে দেওয়া গেল, কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে? সেই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে।

খাতায়-কলমে দেখতে গেলে সিজেপি নেতৃত্ব মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যে ধর্না আন্দোলনে বসতে চেয়েছিলেন, তা আপাতত রুখতে সাফল্য পেয়েছে দিল্লি পুলিশ। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দিল্লি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আপাত ভাবে আজ দিনের শেষে শান্ত যন্তর মন্তর। যাকে ঝড়ের আগে নীরবতা বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিজেপির শিবিরের একাংশের মতে, আজ পথে পুলিশ নামিয়ে সিজেপির আন্দোলনকারীদের থামাতে কার্যত গোটা নয়াদিল্লিকেই অচল করে দিতে হয়েছিল। যার প্রভাব পড়ে দিল্লির অন্যত্র। বন্ধ রাখতে হয় মেট্রো, বাস ও রেল পরিষেবা। আগামী দিনে যদি ফের ছাত্র-যুবরা যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক দেন, কী হবে? কত দিন এ ভাবে সরকারের পক্ষেই অঘোষিত বন্‌ধ ডেকে আটকানো যাবে বিক্ষোভকারীদের। তা ছাড়া, টানা তিন বার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসা দল এবং নরেন্দ্র মোদীর মতো নেতার কাছে সিজেপির মতো আনকোরা, অরাজনৈতিক দলকে রুখতে যে কড়া মাপের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলেও। যা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেই মনে করছে দল। বিশেষ করে যেখানে সদ্য প্রশাসক হিসেবে মোদীর ২৫ বছর পূর্তিতে একাধিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দল।

জুলাই মাসে সিজেপি নেতৃত্বের আন্দোলনে যে ভাবে পুলিশি বলপ্রয়োগ হয়েছিল তা নিয়ে বিরোধীদের পাশাপাশি শরিকেরা সরব হয়েছিলেন। আজও অন্তত ৭ হাজার তরুণকে আটকে রাজধানীকে কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়ার ঘটনা যে শরিকেরা ভাল ভাবে নেবেন না, তা বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন বিজেপি নেতৃত্ব। আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনেও জ্ঞানেশ কুমার প্রশ্নে বিরোধীরা সংসদ কতটা চলতে দেবেন, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের সমস্যা হল, জেন জ়ি-র প্রতিনিধিত্ব করে সিজেপি। জুলাইয়ের আন্দোলনের পরে এই প্রজন্মের মনের কথা বোঝায় জোর দিয়েছিলেন খোদ সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। কিন্তু জুলাই আন্দোলনের তিন মাস পরেও সরকার যে তা করতে ব্যর্থ তা আজকের আন্দোলন থেকে স্পষ্ট। যে ভাবে পুলিশের প্রবল কড়াকড়ি সত্ত্বেও আজ তরুণেরা পথে নামেন ,তা থেকেই স্পষ্ট যে যুব সমাজ বিজেপির শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়েছিল তাতে ধস নেমেছে। ২০২৯ সালে তরুণদের বড় অংশ যদি বিজেপির বিপক্ষে ভোট দেয়, নরেন্দ্র মোদী সরকারের ফের ক্ষমতায় আসা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে। আগামী দিনে আরএসএস তাই যুব সমাজের ক্ষোভ নিরসনের প্রশ্নে বিজেপির উপর চাপ বাড়াতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনীতিকেরা।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy