আগামী রবিবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগের দিন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল শাসক শিবির। এই বৈঠকে সরকার কী ধরনের বিল আনতে চলছে, তার যেমন আভাস পাওয়া যায়, তেমনই বিরোধীরা কোন বিষয়গুলি নিয়ে সরকারকে আক্রমণ শানাতে চলেছে, তারও ইঙ্গিত মেলে।
আগামী ২০ জুলাই থেকে ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলবে সংসদ। সেখানে যে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি আসতে চলেছে, তার অন্যতম ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল। সূত্রের মতে, আগামী ১৭ জুলাই ওই বিলটি সংসদে জমা দেবে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি)। বিলে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী গুরুতর অপরাধে টানা ৩০ দিনের বেশি জেলে থাকলে ৩১ দিনের মাথায় তাঁকে ইস্তফা দিতে হবে। বিরোধীদের বক্তব্য, বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের জেলে পুরতেই ওই বিল। ফলে বিলটি নিয়ে হইচইয়ের সম্ভাবনা থাকছে। নতুন রূপে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল পেশের প্রস্তুতিও নিচ্ছে কেন্দ্র।
‘এক দেশ এক ভোট’ সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার জন্য গঠিত জেপিসি-র চেয়ারম্যান পিপি চৌধরির মন্তব্য নতুন করে বিলটির বাদল অধিবেশনে আসার সম্ভাবনা উস্কে দিয়েছে। সম্প্রতি বলেন, “দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ চাইছেন, দ্রুত ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি কার্যকর হোক। ২০২৯ সালের মধ্যে ওই আইন কার্যকর করা সম্ভব।” কিন্তু সমস্যা হল, জেপিসি এখনও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা ঘুরে মতামত নিচ্ছে। তা ছাড়া বিলের শর্তে রয়েছে, বিল পাশ হয়ে আইন জারির পরে গঠিত লোকসভার প্রথম দিনটিকে ‘অ্যাপয়েন্টেড ডেট’ হিসেবে ঘোষণা করবেন রাষ্ট্রপতি। সে ক্ষেত্রে ওই তারিখের পাঁচ বছরের মাথায় (২০২৯ থেকে ধরলে ২০৩৪ সালে) লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু ২০২৯ সালেই লোকসভার সঙ্গে বিধানসভা ভোট করতে গেলে সে ক্ষেত্রে জেপিসি বিল জমা দেওয়ার পরে আবার নতুন করে একাধিক পরিবর্তন আনতে হবে সরকারকে।
অন্য দিকে, বিরোধীরা নিটের প্রশ্ন ফাঁস, সিবিএসই-র দ্বাদশের মূল্যায়নে কেলেঙ্কারির দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা চেয়ে সরব হবেন। রামমন্দিরের প্রণামী চুরি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সংসদকে ‘ভুল’ তথ্য দেওয়া নিয়েও সরকারকে আক্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।