সন্তানদের ওষুধ খাওয়ানো নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বচসা। তার পরেই বাপের বাড়ির লোকেদের ডেকে এনেছিলেন। অভিযোগ, বাড়িতে এসে চড়াও হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীকে মারধর করা হয়। তার জেরেই মৃত্যু হয় তাঁর। দিল্লিতে তথ্যপ্রযুক্তির কর্মীর মৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর নাম বিনয় গুপ্ত। তাঁর স্ত্রী রেখা। সাড়ে তিন বছর আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। দম্পতির সাড়ে ৪ মাসের যমজ সন্তান রয়েছে। নয়ডায় এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় বার্ষিক ৬০ লক্ষ টাকার চাকরি করেন। নয়ডাতে চাকরি করলেও থাকতেন দিল্লির নিহাল বিহারে। একটি আবাসনের চারতলায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতেন বিনয়। আর তিনতলায় থাকেন বিনয়ের বাবা-মা।
পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে সন্তানদের ওষুধ খাওয়ানো নিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বচসা শুরু হয় রেখার। তার পরেই বাপের বাড়িতে ফোন করেন তিনি। নিজে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়েও যান। রেখার ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা হাজির হন। রেখার দুই দাদা, বৌদি, বাবা এবং কাকা-সহ অনেকেই এসেছিলেন।
বিনয়ের মায়ের অভিযোগ, হঠাৎই তিনি বাড়ির নীচে চেঁচামেচি শুনতে পান। এসে দেখেন, বিনয়কে মারধর করছেন পুত্রবধূ রেখার বাড়ির লোকেরা। এই ঘটনা যখন ঘটছিল সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন রেখা এবং তাঁর দুই বৌদি। মাটিতে ফেলে গলা টিপে ধরে লাথি, ঘুষি মারা হচ্ছিল বিনয়কে। ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তিনি চিৎকার করতে থাকেন। বিনয়ের মায়ের আরও অভিযোগ, এই ঘটনা যাতে সিসি ক্যামেরায় ধরা না পড়ে, তাই আগে থেকে সব ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মারধরের কারণে বিনয় জ্ঞান হারান। স্থানীয় এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর রেখা, তাঁর দুই দাদা এবং এক বৌদিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিনয়ের পরিবারের অভিযোগ, রেখা আগেও তাঁর দাদাদের দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন।