অভিবাসন নীতিতে ফের বদল আনল আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার। সে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই ‘গ্রিন কার্ড’-এর আবেদন— বহু বছর ধরে এটাই ছিল অভিবাসীদের ভরসা। কিন্তু সেই রাস্তা কার্যত বন্ধ করে দিল ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ আবেদনকারীকে আমেরিকা ছেড়ে নিজের দেশ থেকে আমেরিকার দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন জানাতে হবে গ্রিন কার্ডের জন্য। এতেই তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। যদিও আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো ভারত সফরে এসে দাবি করেছেন, এই নিয়ম শুধু ভারতবাসী নয়, বিশ্বের সকলের জন্যই কার্যকর।
আমেরিকান নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস)-এর নয়া নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ ছাড়া আর কেউ আমেরিকার ভিতরে থেকে ‘স্টেটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট’ করতে পারবেন না। অর্থাৎ, অস্থায়ী ভিসায় থাকা ব্যক্তি যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি চান, তা হলে তাঁকে দেশে ফিরে আবেদন জানাতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই সিদ্ধান্তে অভিবাসন ব্যবস্থা আরও ‘স্বচ্ছ’ ও ‘কার্যকর’ হবে। তাদের বক্তব্য, এত দিন বহু মানুষ অস্থায়ী ভিসায় আমেরিকায় ঢুকে সেখানেই থাকার সুযোগ পেতেন। আবেদন খারিজ হলেও দেশে ফিরতেন না। ফলে বেআইনি ভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছিল। তা বন্ধ করতেই এমন পদক্ষেপ।
তবে মানবাধিকার সংগঠন এবং অভিবাসন আইনজীবীদের বড় অংশের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তে ভেঙে পড়বে অসংখ্য পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। কারণ, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া বহু ক্ষেত্রেই কয়েক বছর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এত দিন আবেদন চলাকালীন পরিবার একসঙ্গে থাকতে পারত। এখন আবেদনকারীকে দেশে ফিরতে হলে পরিবার বা কর্মক্ষেত্র— সব কিছু থেকেই দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে।
এ ছাড়া নানা মহলের আশঙ্কা, আগামী দিনে কেউ যদি আমেরিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করেন, তা হলে তাঁর ফেরার নিশ্চয়তা আর থাকবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যেন ট্রাম্প প্রশাসন বোঝানোর চেষ্টা করছে যে আমেরিকায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করা আর আগের মতো সহজ হবে না। যদিও এ প্রসঙ্গে মার্কো রুবিয়ো এ দিন বলেন, “এমন পদ্ধতিগত বদল না আনলেও চলবে না। এই প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায়ও নেই অভিবাসীদের।” রুবিয়ো জানিয়েছেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ভিসা টুল আনতে চলেছে আমেরিকা। এখানে সেই সকল ব্যবসায়ী অগ্রাধিকার পাবেন যাঁদের সফরের কারণে আমেরিকা-ভারত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।