Advertisement
E-Paper

নিচু জাত বলে হেনস্থা? তিন মাস ধরে আইআইটি বম্বেতে নিগ্রহের শিকার ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র, দাবি বাবার, মৃত্যুতে উত্তাল ক্যাম্পাস

শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন আইআইটি বম্বের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডে। তার পরেই হস্টেলের ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:১৪
(বাঁ দিকে) আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে মৃত ছাত্র সাহিল। —ফাইল চিত্র। ক্যাম্পাস থেকে বেরোচ্ছেন তাঁর মা-বাবা (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

(বাঁ দিকে) আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে মৃত ছাত্র সাহিল। —ফাইল চিত্র। ক্যাম্পাস থেকে বেরোচ্ছেন তাঁর মা-বাবা (ডান দিকে)। ছবি: পিটিআই।

আইআইটি বম্বেতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এ বার তাঁর পরিবার জাতপাতের বৈষম্যের অভিযোগ তুলল প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। মৃত ছাত্রের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তফসিলি জাতি ও জনজাতি আইনে এফআইআর করা হয়েছে।

শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিলেন ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোডে। অভিযোগ, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চ্যাটজিপিটি-তে আপলোড করে উত্তর চাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হস্টেলের ঘর থেকে ওই পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার করা হয়। এই নিয়ে গত সাত মাসে আইআইটি বম্বের পওয়াই ক্যাম্পাসে তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল। কর্তৃপক্ষের আচরণ এবং ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জাতি বৈষম্যের অভিযোগে সরব হলেন পুত্রহারা বাবা-মা।

সাহিলের মা দাবি করেছেন, তাঁর পুত্র লড়াকু মানসিকতার ছেলে। সহজে হার মানার ছেলে নন। তাঁর উপর নির্যাতন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বলেছেন, ‘‘আমার ছেলেকে নির্যাতন করা হয়েছে। ন্যায়বিচার চাই।’’ এর পরেই থানায় জাতিবৈষম্য নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাহিলের বাবা। সেখানে আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর শিরীষ বি কেদারে-সহ একাধিক অধ্যাপকের নাম করা হয়েছে। ওই দিন পরীক্ষার হলে পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা। তাঁর বিরুদ্ধেও জাত তুলে ছাত্রকে হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। তফসিলি জাতি ও জনজাতি আইনেও মামলা হয়েছে।

আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিক্ষোভ।

আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে ছাত্রদের বিক্ষোভ। ছবি: পিটিআই।

অভিযোগপত্রে সাহিলের বাবার দাবি, গত তিন মাস ধরে তাঁর পুত্রকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল ক্যাম্পাসের মধ্যে। নিচু জাত বলে নানারকম মন্তব্য করা হত তাঁর উদ্দেশে। সবটাই ডিরেক্টরের নির্দেশে হচ্ছিল বলেও দাবি করেছেন মৃতের বাবা। তিনি জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে আইআইটি বম্বেতে পড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন সাহিল। প্রথম বর্ষেও তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। সমস্যা শুরু হয় দ্বিতীয় বছর থেকে। তিন মাস ধরে লাগাতার হেনস্থার কারণেই সাহিল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে, দাবি তার পরিবারের।

এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষের অবস্থান অনড়। তাঁদের দাবি, পরীক্ষায় অসৎ উপায় অবলম্বন করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর ওই ছাত্রের সঙ্গে অধ্যাপকেরা কথা বলেছিলেন এবং কাউন্সেলিং করেছিলেন। তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। তার পরেও কেন তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন, স্পষ্ট নয়। তবে বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা এই ব্যাখ্যা মানতে চাননি। তাঁদের অভিযোগ, সাহিলকে এক বছরের জন্য সাসপেন্ড করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাতে তাঁর কেরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ। ডিরেক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিক্ষুব্ধদের একাংশ। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

IIT Bombay Suicide Case Student Death

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy