তেলঙ্গানার আদিলাবাদে রাজীব গাঁধী ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (রিমস)-এ সোমবার মাঝরাতে অগ্নিকাণ্ডে দুই সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাত ১২টা নাগাদ এসএনসিইউ থেকে ধোঁয়া বার হতে দেখা যায়। তার পর একটা বিস্ফোরণ হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে শিশুবিভাগে।
আগুন লাগার ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে যায় হাসপাতালে। শিশুবিভাগ এবং পাশের কয়েকটি বিভাগে ধোঁয়ায় ভরে যায়। হাসপাতালের নার্স এবং কর্মীরা এসএনসিইউ থেকে শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিদ্যুৎচালিত সমস্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। স্থানান্তরের সময় একটি ‘প্রিম্যাচিওর’ শিশু-সহ দু’টি শিশুর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় এসএনসিউয়ে ৩০টি শিশু ছিল। ২৮ শিশুকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে দমকল। প্রাথমিক ভাবে দমকলের সন্দেহ, এসির শর্ট সার্কিটের কারণে এই দুর্ঘটনা। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। জেলাশাসক রাজর্ষি শাহ এবং পুলিশ সুপার অখিল মহাজন ঘটনার পর পরই হাসপাতালে পৌঁছোন। তাঁরা পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। জেলাশাসক জানিয়েছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তদন্ত করে দেখা হবে তা-ও।
মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি অগ্নিকাণ্ডে দুই শিশুর মৃত্যুতে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। বাকি শিশুদের যাতে ঠিক মতো চিকিৎসা হয়, তার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখার কথাও বলেছেন। কী ভাবে অগ্নিকাণ্ড, তার বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ মাসের গোড়াতেই মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরের এক বেসরকারি হাসপাতালের শিশুবিভাগে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। সেই ঘটনায় কোনও শিশু হতাহত হয়নি ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গত অগস্টেও মহারাষ্ট্রে অমরাবতীতে একটি হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশুদের বিভাগে আগুন লাগে, সেই ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।