কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে টালবাহানার জেরে এ বার কলকাতায় নির্ধারিত জিএসটি পরিষদের বৈঠক পিছিয়ে যেতে পারে।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরি ও সব রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা করের এক দশকের ইতিহাসে এই প্রথম জিএসটি বৈঠক কলকাতায় বসার কথা। অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর, কেন্দ্রের তরফে রাজ্য প্রশাসনকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, বৈঠক পিছিয়ে যেতে পারে। কারণ, ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে।
রাজনৈতিক সূত্র অবশ্য বলছে, মোদী সরকারের মন্ত্রিসভার রদবদলের জন্য জিএসটি বৈঠক পিছিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। কারণ জিএসটি পরিষদে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীও তার সদস্য। মন্ত্রিসভার রদবদলে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের মন্ত্রক পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ তাঁকে সরালে বিরোধীরা বলবে, মোদী সরকার অর্থনীতিতে ব্যর্থতা মেনে নিল। কিন্তু অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পঙ্কজের বিদায় প্রায় নিশ্চিত। এই ওবিসি নেতাকে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশে বিজেপির রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যিনি নতুন অর্থ প্রতিমন্ত্রী হবেন, তিনিই জিএসটি পরিষদের সদস্য হবেন। ফলে জিএসটি পরিষদের বৈঠক মন্ত্রিসভার রদবদলের উপরে নির্ভর করছে। সংসদের বাদল অধিবেশনের জন্য নয়। সংসদ যে ২০ জুলাই থেকে শুরু হবে, তা আগেই ঠিক ছিল।
সংসদের অধিবেশন শেষ হবে ১৩ অগস্ট। মোদী সরকারের কর্তাব্যক্তিদের ধারণা, তার পরেই মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। সেক্ষেত্রে জিএসটি পরিষদের বৈঠক অগস্ট বা সেপ্টেম্বরের আগে হবে না। শেষ বৈঠক হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। তার পরে ১০ মাস কাটতে চললেও জিএসটি পরিষদের বৈঠক হয়নি। অথচ প্রতি তিন মাসে একবার বৈঠক হওয়ার কথা।
সরকারি একটি সূত্র বলছে, সম্ভাবনা একেবারে কম হলেও রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পরে মন্ত্রিসভার রদবদলের সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে রথযাত্রার আগে ১৫ জুলাই মন্ত্রিসভার রদবদল হবে। কিন্তু সংসদের বাদল অধিবেশনের মাত্র পাঁচ দিন আগে মোদী সরকার সে পথে হাঁটবে বলে মনে হয় না।
মন্ত্রিসভার রদবদলের আগে মোদী সরকারের উপরে চাপ বাড়িয়ে কংগ্রেস দাবি তুলেছে, কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ভূপেন্দ্র যাদবকে ইস্তফা দিতে হবে। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, ব্যক্তিগত সহায়ক, অতিরিক্ত সহায়ক মিলিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চারজন সহযোগীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ তাঁরা দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। সে ক্ষেত্রে রাজধর্ম মেনে মন্ত্রীকেও দায় নিতে হবে। জয়রামের বক্তব্য, ‘‘বহু বছর আগে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় নরেন্দ্র মোদীকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী রাজধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন।’’ কংগ্রেসের দাবি, একই ভাবে প্রশ্ন ফাঁসের দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়া উচিত।