চলতি বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বিক্ষোভে বার বার অচল হয়েছে সংসদ। দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে তারা। তবে তাতে যে অধিবেশনের সময় নষ্ট হয়েছে, তা বিল পাসের সংখ্যা দেখলে আর বলা যাবে না। এখনও অধিবেশন শেষ হতে দু’দিন বাকি। ইতিমধ্যে সংসদে ১৯টি বিল পাস করিয়েছে এনডিএ সরকার। তার মধ্যে এমনও নজির রয়েছে, মাত্র ৩৬ মিনিটে পাস হয়েছে সাতটি বিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বিল পাসই হয়েছে, কিন্তু তা নিয়ে কোনও বিতর্ক হয়নি।
সাতটি বিল পাস হতে গড়ে সময় লেগেছে পাঁচ মিনিট। কয়েকটি বিলের ক্ষেত্রে সাংসদেরা সংশোধনী প্রস্তাব দিয়েছেন। সে কারণে সেগুলি পাস করাতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে এই পাস করানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
সংসদে অধিবেশনে কার্যকরী মোট সময় সেই প্রশ্নকেই আরও উস্কে দেয়। যদি প্রতিদিন ছ’ঘণ্টা করে অধিবেশন হয়, তা হলে ১৫ দিনে ৯০ ঘণ্টা অধিবেশন চলার কথা। কিন্তু চলতি বাদল অধিবেশনে এ পর্যন্ত লোকসভা চলেছে ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। রাজ্যসভায় অধিবেশন চলেছে ২৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট। সেখানে গড়ে প্রতিটি বিল পাস করাতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টা।
লোকসভায় বিরোধীরা লাগাতার স্লোগান দিয়েছে। রাজ্যসভা থেকে বার বার কক্ষত্যাগ করেছে তারা। তার পরেও বিল পাস হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল পাবলিক এগ্জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল। লোকসভায় এই বিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে ১১ ঘণ্টা। রাজ্যসভায় আলোচনা চলেছে সাত ঘণ্টা ১৪ মিনিট।
চলতি অধিবেশনে একেবারেই যা হয়নি, তা হল প্রশ্নোত্তর পর্ব। শুধু এই অধিবেশন বলে নয়, অষ্টাদশ লোকসভার সব অধিবেশনেই সময় কাটছাঁট হয়েছে এই পর্বের। নেপথ্যে রয়েছে বিরোধীদের বিক্ষোভ। ২০২৪ সালের বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সময় নষ্ট হয়েছিল তিন শতাংশ। শীতকালীন অধিবেশনে তা বেড়ে হয় ৫৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের বাদল অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সময় নষ্ট হয় ৭৭ শতাংশ। চলতি বাদল অধিবেশনে তা একেবারেই করা যায়নি। তার ফলে সাংসদেরা কোনও প্রশ্ন করতে পারেননি। তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।