ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের আটটি তথ্যপ্রযুক্তি বহুজাতিকের বিরুদ্ধে আমেরিকার করা কঠোর পদক্ষেপে কারও উপকার হবে না, বার্তা দিল কেন্দ্র। তাদের গ্রিন কার্ডে কর্মী নিয়োগের পথ বন্ধ করার পাশাপাশি বিদেশি তথ্যপ্রযুক্তি পেশাদার কর্মীদের ‘চুক্তিভিত্তিক পরিচারক’ তকমা দিয়েছেন সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। যাকে ‘অনভিপ্রেত’ এবং ‘তীব্র আপত্তিকর’ বলে শুক্রবার বিবৃতিতে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। এ দিকে, বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে পড়ছে মোদী সরকার। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, আমেরিকার সংস্থাগুলিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ইউপিআই লেনদেনে চার্জ বসিয়েছে ভারত। কিন্তু ‘উৎপীড়ককে’ তুষ্ট করে যে ফল মেলে না, সেটাই ফের প্রমাণ হল। সংশ্লিষ্ট মহলের অবশ্য ধারণা, এতে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের তেমন ক্ষতি হবে না। উল্টে হাতে আসতে পারে ভাল মানের কাজ।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসন ভারত, আমেরিকা ও ফ্রান্সের মোট আট সংস্থা ইনফোসিস, কগনিজ়্যান্ট, টিসিএস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, মাইক্রোসফট, অ্যাডব, কেপজেমিনিকে গ্রিন কার্ড কর্মসূচি থেকে সাসপেন্ড করেছে। ফলে তারা ওই কার্ডের মাধ্যমে কর্মীদের আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে কাজ করাতে পারবে না। অভিযোগ, সংস্থাগুলি দীর্ঘ দিন ধরে এর সুযোগ নিয়ে আমেরিকার কর্মীদের ছাঁটাই করে নিয়েছেবিদেশি কর্মী।
বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, দক্ষ মানবসম্পদের আদানপ্রদান দু’টি দেশের অর্থনীতির পক্ষেই ভাল। এতে ভারতীয়দের সামনে সুযোগ তৈরি হয়। আমেরিকার সংস্থাগুলি দক্ষ কর্মী পায়, গবেষণা-উদ্ভাবনে গতি আসে, বাড়ে উৎপাদনশীলতা। ফলে সে দেশে সম্পদ তৈরি হয়। কিন্তু আমেরিকার ঘোষণায় দু’পক্ষের সুবিধাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা নেই। ভান্সের বক্তব্যে ভারতীয়দের দক্ষতা ও উচ্চশিক্ষাকে মাথায় রাখা হয়নি বলে তোপ দেগে মন্ত্রকের বার্তা, ‘‘অভিবাসীদের শ্রম, উদ্ভাবন ও উদ্যোগের হাত ধরে যে আমেরিকার আর্থিক উন্নতি হয়েছে, সেটা তাদের ইতিহাসই বলে দেয়। ....ফলে যে বক্তব্য সাম্রাজ্যবাদ এবং দুঃখজনক অতীতকে তুলে ধরে, তা অনভিপ্রেত।’’
এই আবহে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে তাদের সংগঠন ন্যাসকম, বাণিজ্য উপদেষ্টা জিটিআরআই, টিসিএস এবং মাইক্রোসফটের মতো তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার বার্তা। সকলেরই অভিমত, ভবিষ্যতে ভারতে পা রাখতে পারে আরও অনেকে।