নিট-কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে যন্তর মন্তরে সিজেপি-র ধর্না মঞ্চে অনশন করা সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রাজ্যেও প্রতিবাদের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। ‘শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে’র অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে শনিবার থেকেই পথে নেমেছে সিপিএম-সহ বিভিন্ন বাম দল। এরই মধ্যে, বিশ্বভারতীতে বাম-ছাত্রদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাঁদের সঙ্গে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র কর্মী, সমর্থকদের হাতাহাতি বেধেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা এ দিন বলেছেন, “গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ ভিন্ন মতকে উপেক্ষা না-করে আলোচনায় বসা দরকার। তাঁর (সোনম) মতোই অসংখ্য তরুণ ভারতীয়ের কণ্ঠ ক্রমাগত উপেক্ষিত হচ্ছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মানের মাধ্যমেই জনতার আস্থা অর্জন করা যায়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমন করে সেটা হয় না।” কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে মমতার সংযোজন, “যে সরকার ভিন্ন মতকে হুমকি হিসাবে দেখে, সেই সরকার জনতার আস্থা দাবি করতে পারে না।” পাশাপাশি, সোনমকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর এবং দরকারে নাগরিকেরা যাতে তাঁর চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন, সেই অনুমতি দেওয়া দরকার বলেও দাবি তুলেছেন মমতা।
যদিও রাজ্যে মমতার আমলে শিক্ষকদের আন্দোলন-সহ নানা পর্বে পুলিশের ভূমিকার কথা পাল্টা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বামেরা। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনস্থলে গিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট। যন্তর মন্তরে অনশনে বসছেন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি আদর্শ এম সাজি, সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ। সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেছেন, “ধর্মেন্দ্র ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী। মোদী সরকার ভেবেছে আন্দোলনকারীদের তুলে নিয়ে গিয়ে আন্দোলনকারীদের মেজাজ ভাঙা যাবে। তাঁরা ভুল ভাবছেন।” ‘আক্রান্ত গণতন্ত্র, আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা’ স্লোগান তুলে সিউড়ি, মালদহ-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে প্রতিবাদে নেমেছে সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই। কলেজ স্ট্রিটে মিছিল, মানববন্ধনও করেছে এসএফআই। পাশাপাশি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতীকী অনশন করেছে এসএফআই-সহ নানা বাম ছাত্র সংগঠন। পাশাপাশি, সোনম-কাণ্ডের প্রতিবাদে এ দিন বিশ্বভারতীর বাম ছাত্র সংগঠন সমর্থিত পড়ুয়া এবং কয়েক জন সাধারণ ছাত্রছাত্রী প্রতীকী অনশনে বসতে গেলে তাতে এবিভিপি-র কয়েক জন বাধা দেন বলে অভিযোগ। দু’পক্ষে বাগ্বিতণ্ডা, মারধর, স্লোগান-বিনিময় চলেছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতির সামাল দেয়। তবে আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্ত, আজ, রবিবার সকাল পর্যন্ত অনশন চলবে। এবিভিপি অভিযোগ মানেনি।
যন্তর মন্তরে লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন আইসা সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা, মণীশ, আমিনও অনশন করছেন। পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে লিবারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটি বলেছে, ‘সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিত ভাবে ধ্বংস করার বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের কোনও জবাব মোদী সরকারের কাছে নেই।’ প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এসইউসি-র ছাত্র সংগঠন ডিএসও। ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগের দাবিতে আগামী কাল, সোমবার কলেজ স্ট্রিটে প্রতিবাদসভা করতে চলেছে আরএসপি-র যুব সংগঠন আরওয়াইএফ।