সিকিমে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গ বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১১। তবে সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও আটকে ১৫ শ্রমিক। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সুড়ঙ্গের ভিতরে মিথেন গ্যাস লিক করায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া বৃষ্টির কারণেও উদ্ধারকাজ বাধা পাচ্ছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কত জন শ্রমিক ভিতরে আটকে রয়েছেন সেই সংখ্যাটি স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন নামচির জেলাশাসক অনুপ তামাং। তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নামচির পুলিশ সুপার সোনম দলমা ভুটিয়া জানিয়েছেন, ১৫ জন শ্রমিক ভিতরে আটকে রয়েছেন।
উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এনএইচপিসি, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সিকিম পুলিশ, দমকল-সহ বেশ কয়েকটি উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, মিথেন গ্যাস লিক করছে। ফলে সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢোকা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে নেমে কয়েক জন উদ্ধারকারী মিথেন গ্যাসের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
সোমবার নামচির সামারদুং এলাকার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে ধস নামে। ভিতরে আটকে পড়েন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। ধসের জেরে সুড়ঙ্গমুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভিতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে হঠাৎই বিকট শব্দ শোনা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে ধস নেমে সুডঙ্গমুখ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এর পরেই সেখানে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক হতে শুরু করে, যা উদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী , সিকিম পুলিশ এবং দমকলের একাধিক দল। নামচির জেলাশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক ছিল যে, প্রাথমিক পর্যায়ে সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই সুড়ঙ্গে ঢোকার চেষ্টা করলে উদ্ধারকারী দলের বেশ কয়েক জন সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম নিয়ে এনডিআরএফ-এর দ্বিতীয় দল সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশ করে এবং উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপদে বাইরে বার করে আনাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।