যন্তর মন্তরে ছাত্র আন্দোলনের পরে দেশ জুড়েই পড়ুয়ারা মাঠে নেমেছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল স্থির করতে বৈঠকে বসল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। আজ আরএসএসের তিন দিনের অখিল ভারতীয় সমন্বয় বৈঠকের উদ্বোধন করেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। সূত্রের মতে, বৈঠকে যুব সমাজের মন পেতে বিশেষ পরিকল্পনায় জোর দিয়েছেন সঙ্ঘপ্রধান।
আজকের বৈঠকে সঙ্ঘের ছাতার তলায় থাকা ৩২টি সংগঠন যোগ দিয়েছে। আরএসএস সূত্রের খবর, ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবে সংগঠনের ভূমিকা কী হবে, তা স্থির করতে যেমন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, তেমনই যুব সমাজের আকাঙ্ক্ষা, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, যুব সমাজের মধ্যে মাদক-বিরোধী প্রচার চালানোর উপর জোর দেওয়া হবে বৈঠকে।
শাসক শিবির যে নতুন প্রজন্মের বার্তা বুঝতে ব্যর্থ, তা ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করে নিচ্ছেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। তাই আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়ানোয় জোর দিয়েছেন ভাগবত। বিজেপির একাংশ যখন আন্দোলনকারীদের দেশদ্রোহী বলে দাগিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে, তখন সম্প্রতি ভাগবত বলেছিলেন, ‘‘আন্দোলনে নামলেই কেউ দেশদ্রোহী হয়ে যায় না। এরা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। নিজেদের লোক।’’ ভাগবত নতুন প্রজন্মকে কাছে টানার যে বার্তা দিয়েছেন, তার উপরে ভিত্তি করে বিশেষ পরিকল্পনা রচনায় জোর দিয়েছেন আরএসএস নেতৃত্ব।
বিশাখাপত্তনমে আরএসএসের ওই বৈঠকে পদাধিকার বলে যোগ দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। আরএসএসের বৈঠকে সভাপতি হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম উপস্থিতি। ২১ অগস্ট আরএসএসের তিন দিনের বৈঠক শেষে দিল্লি ফেরার কথা নিতিনের। পর দিন সদ্যঘোষিত নিজস্ব ‘টিমের’ সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা। সূত্রের মতে, ওই বৈঠকে প্রত্যেককে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি, আগামী বছরের গোড়ায় উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।