উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে ব্যাঙ্ককর্মী হত্যাকাণ্ডে নয়া তথ্য। ছোটখাটো বিষয়ে স্ত্রীকে মারধর করতেন অভিযুক্ত মানস বাজপেয়ী। তাঁকে সন্দেহ করতেন বলেও দাবি নিহত দিব্যা মিশ্রার বোন প্রজ্ঞার। এক্স হ্যান্ডলে প্রজ্ঞা বলেন, ‘‘টম্যাটো কেন পচে গিয়েছে, তার জন্যও দিদিকে মারধর করা হয়েছে।’’
প্রজ্ঞা আরও বলেন, ‘‘বিয়ের পর থেকেই দিদির উপর অত্যাচার করত মানস। সে কারণেই ওর থেকে আলাদা থাকা শুরু করেছিল দিদি।’’ তাঁর অভিযোগ, মানস এবং তাঁর বোন নিজের মাকেও মারধর করতেন। ওঁরা মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিলেন। মারধরের চোটে মানসের মায়ের মৃত্যু হয় বলেও দাবি প্রজ্ঞার।
দিব্যা নিজেও একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি করতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে হাজির হন মানস। স্ত্রীকে ডাকেন। তার পর ব্যাঙ্কের সামনেই দু’জনের বচসা শুরু হয়। আচমকা দিব্যাকে মারধর করা শুরু করেন বলে অভিযোগ। আওয়াজ শুনে ব্যাঙ্কের কর্মী এবং নিরাপত্তারক্ষীরা বেরিয়ে আসেন। মানসকে থামানোর জন্য এগিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু তত ক্ষণে মানস বন্দুক বার করে দিব্যাকে গুলি করেন। দিব্যা রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। মানস ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। দিব্যাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিজের বোনকেও গুলি করে হত্যা করেন মানস। জানা গিয়েছে, মানসের বোন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাসে স্ত্রী এবং বোনকে খুনের কথা লেখেন মানস। এটাও লেখেন, কেন দিব্যাকে খুন করলাম সব জানে প্রজ্ঞা এবং ভরত।
মানসের এক প্রতিবেশী জানান, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বাড়ি ফেরেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘মানসকে খুব বিচলিত দেখাচ্ছিল। প্রচণ্ড ঘামছিলেন। বাড়ির ভিতরে ঢোকেন। জোরে গান চালান।’’ তার কিছু পরেই মানসের হোয়াট্সঅ্যাপ স্টেটাস নজরে আসে ওই পড়শির। তার পরই মানসের বাড়িতে যান। গিয়ে দেখেন ঘরের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। তার পরই পুলিশকে খবর দেন।