E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

নির্বিঘ্নে নিট হবে বলে তোপের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান

গত ৩ মে হওয়া নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নিয়েছেন একাধিক পড়ুয়া।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ ০৯:১৮
ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ধর্মেন্দ্র প্রধান। — ফাইল চিত্র।

আগামী ২১ জুন ফের হবে ডাক্তারির সর্বভারতীয় পরীক্ষা বা নিট। তা নির্বিঘ্নেই হবে বলে দাবি করে সমালোচনার মুখে পড়লেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পড়ুয়াদের প্রতি বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘মোদী সরকারের উপরে ভরসা রাখুন।’’ যা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ, এমন প্রতিশ্রুতি তো আগেও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লাভ হল কোথায়!

গত ৩ মে হওয়া নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকেই চাপে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নিয়েছেন একাধিক পড়ুয়া। যা দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য করে গত কাল প্রধান বলেন, ‘‘২২ লক্ষ পড়ুয়ার মানসিক কষ্ট বুঝতে পারছি। কিন্তু যাতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় থাকে সেই লক্ষ্যেই পরীক্ষা বাতিলের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যাতে শিক্ষা মাফিয়াদের কারণে কোনও যোগ্য পড়ুয়া বঞ্চিত না হয়।’’ পাশাপাশি আত্মহত্যার ঘটনার জন্য পড়ুয়াদের ভাল ফল করতে অভিভাবকদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বন্ধ করা এবং কোচিং সংস্কৃতি যাতে পড়ুয়াদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট না করে দেয় সে দিকে নজর দিতে অনুরোধ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রধানের দাবি, ‘‘আসন্ন নিট নির্বিঘ্নে হবে।’’ একই সঙ্গে পড়ুয়া ও তাঁদের অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘‘ব্যবস্থার উপরে ভরসা রাখুন। সরকারের উপরভরসা রাখুন।’’

প্রধানের ওই আশ্বাসের সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য দু’বছর আগে যখন নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল তখনও তিনি বলেছিলেন, এমন কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যে ভবিষ্যতে প্রশ্ন ফাঁস হবে না। কিন্তু কেবল ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রই নয়, ওই প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নেমে দেখা যাচ্ছে ২০২৫ সালের প্রশ্ন ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিপিএম নেতা হান্নান মোল্লা বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সময়কালেই ওই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। গত বারেও যখন প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল তখন তিনি মন্ত্রী ছিলেন। এ নিয়ে দ্বিতীয় বার প্রশ্ন ফাঁস রুখতে ব্যর্থ হলেন তিনি। তাই দেখার আগামী দিনে তিনি কী ভাবে নিজের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সমর্থ হন।’’

প্রশ্ন ফাঁস কী ভাবে রুখতে হয় তা জানতে কর্নাটক সরকারের কাছে এসে ধর্মেন্দ্র প্রধানের শিক্ষা নিয়ে যাওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন সে রাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষামন্ত্রী মধু বঙ্গারাপ্পা। তিনি বলেন, ‘‘পরীক্ষার দিনেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রায় দশ দিন পরে পরীক্ষা বাতিল হয়। কেন এত সময় নিলেন শিক্ষামন্ত্রী?’’ তাঁর দাবি, বর্তমান কংগ্রেস সরকারের আমলে কর্নাটক শিক্ষা দফতর তিনটি পরীক্ষার আয়োজন করেছে। যার একটিরও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। মধু বলেন, ‘‘কী ভাবে প্রশ্ন ফাঁস রুখতে হয় তা জানা না থাকলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের উচিত কর্নাটক সরকারের কাছে এসে সেই শিক্ষানিয়ে যাওয়া।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Dharmendra Pradhan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy