চুল ভাল রাখতে তেল, সেরামের মতোই জরুরি হল ভাল একটা চিরুনি। চুল পরিষ্কার রাখতে সেই প্রাচীন যুগ থেকেই চিরুনির উপরে ভরসা করে এসেছে মানুষ। সভ্যতার সূচনাকাল থেকেই চিরুনি ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়। মিশর, চিনদেশের ইতিহাসে নানা রকম চিরুনির বর্ণনা রয়েছে। সেখানে যেমন রয়েছে পাথরের চিরুনি, তেমনই নানা পশুর হাড়, শিং, হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোল দিয়ে বানানো চিরুনি ব্যবহারের কথাও পাওয়া যায়। চুলের কেয়ারিতে আবার নানা ধাতুর তৈরি অর্থাৎ সোনা, রুপোর চিরুনি ব্যবহারেরও চল ছিল।
দিন এগিয়েছে। ক্রমশ কেতাদুরস্ত হচ্ছে মানুষ আর তার ব্যবহার্য সামগ্রী হচ্ছে স্মার্ট। ফলে সাজসজ্জার জগতেও আধিপত্য বিস্তার করছে স্মার্ট হেয়ারব্রাশ। চুলের স্বাস্থ্যরক্ষায় এই ধরনের ব্রাশ বেশ উপযোগী বলে মনে করছেন রূপ বিশেষজ্ঞরা।
স্মার্ট হেয়ারব্রাশের সুবিধে
- প্রযুক্তির সাহায্যে এই ধরনের হেয়ারব্রাশ স্ক্যাল্প ও চুলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ফলে চুল আঁচড়ানোর সময়ে চুলের ঘনত্ব, স্ক্যাল্পের অবস্থা বিশ্লেষণ করে সেই মতো চুল আঁচড়াতে সাহায্য করে। স্ক্যাল্পের উপরে কতটা চাপ দেওয়া যাবে বা যাবে না, তা এই ধরনের হেয়ারব্রাশের সাহায্য়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ঠিক কৌশলে চুল আঁচড়ানোয় স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়। এতে চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকে। চুলের ক্ষতি কম হয়।
- আবার সেন্সরের সাহায্যে চুলের টেক্সচার, আর্দ্রতার মাত্রা, চুলের ধরন সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করে। ফলে সেই অনুযায়ী চুলের কী যত্ন নেওয়া দরকার সেই সম্পর্কে অবহিত হন ব্যবহারকারী। চুলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করে চুল আঁচড়ানোর সময় এগুলো চুলের গঠন (টেক্সচার), আর্দ্রতার মাত্রা, মাথার ত্বকের (স্ক্যাল্প) অবস্থা এবং এমনকি চুল ভেঙে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও শনাক্ত করতে পারে।
- প্রত্যেকটা চুলের গঠনও এই ধরনের স্মার্ট ব্রাশ আলাদা ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। চুলের ডগা ফেটেছে কিনা, চুল পড়ে যাচ্ছে কিনা... এই ধরনের সমস্যাও শনাক্ত করতে পারে। ফলে সমস্যাভিত্তিক সমাধানের পথ খোঁজা সহজ হয়। অনেক সময়েই চুল ক্রমশ নষ্ট হয়ে গেলেও কেন সেটা হচ্ছে, আমরা বুঝতে পারি না। বা চুলে ঠিক কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সেটাও সব সময়ে শনাক্ত করা যায় না। স্মার্টব্রাশ নির্দিষ্ট ভাবে চুল ও স্ক্যাল্পের সমস্যা শনাক্ত করতে পারে। ফলে চুল ভাল রাখার কাজটা অনেক সহজ হয়।
- অনেক স্মার্ট ব্রাশ আবার ব্লু-টুথ বা ওয়াইফাই দিয়ে মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করে নেওয়া যায়। এতে চুলের স্বাস্থ্য কেমন রয়েছে, চুলের যত্নে কী করা উচিত, সেই ধরনের পরামর্শ চলে আসে। অনেকদিন চুলের যত্ন না নিলে চুলের স্বাস্থ্যের যদি অবনতি হয়, সেই সংক্রান্ত অ্যালার্ম বা সঙ্কেতও পাঠাতে থাকে এই ধরনের চিরুনি। ফলে হাজারো কাজের ব্যস্ততাতেও চুলের ট্র্যাক রাখা, যত্নে রাখা অনেক সহজ হয়ে ওঠে।
তবে এই ধরনের স্মার্ট ব্রাশের যত্নআত্তি দরকার। চুল আঁচড়ানোর পরেই চুল ছাড়িয়ে রাখতে হবে। আর একদম যাতে জল না লাগে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। দরকার হলে ওয়েট টিসু দিয়ে মুছে রাখতে পারেন।