জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে নিয়ে এত দিন ছুটতে হত ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে রায়দিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে। বিশেষত, রাত-বিরেতে যাতায়াত করতে নানা সমস্যায় পড়তে হত। সেখান থেকে রোগীকে ‘রেফার’ করে দেওয়া হলে সে ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতাল ছাড়া গতি ছিল না। রবিবার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে রায়দিঘিতে ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল উদ্বোধনের পরে সেই সমস্যার কিছুটা হলেও সুরাহা হল বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষজন।
রায়দিঘি কৌতলা আশা-কিরণ হাসপাতালের উদ্বোধন করেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বেলজিয়ামের এক সদস্য। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, কৌতলা গ্রামের কাছে ২০০৯ সাল থেকে একতলা ভবনে সংস্থার উদ্যোগে বহির্বিভাগে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ২০১৪ সালের ১০ জানুয়ারি সরকারি অনুমোদন মেলে। সেই মতো ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা দেওয়ার জন্য অবসরপ্রাপ্ত দু’জন মেডিক্যাল অফিসার, এক জন জেনারেল ফিজিসিয়ান, দু’জন প্রসূতি বিশেষজ্ঞ, এক জন শিশু বিশেষজ্ঞ নিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, নার্স আছেন ৪ জন, চতুর্থ শ্রেণির করণিক ২ জন, সাফাই কর্মী ৪ জন। প্যাথলজি বিভাগ বা অস্ত্রোপচারেরও ব্যবস্থা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবাও মিলবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় সমস্ত রকম ওষুধ মজুত রয়েছে, যা বাজার দরের থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড়ে মিলবে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীর হালদারের উদ্যোগেই গড়ে উঠেছে এই হাসপাতাল। সমীরবাবু জানান, বছর খানেক আগে বেলজিয়ামের একটি দল এলাকায় এসেছিল। দলের এক সদস্য ইয়ন ক্লায়েসের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। এলাকার বড় সমস্যা কী জানতে চাওয়ায় মহিলা ও শিশুদের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যার কথা বলেছিলেন সমীরবাবু। পরে ইয়নের উদ্যোগে আর্থিক সাহায্য পৌঁছয়। শিশু ও মহিলাদের নূন্যতম মূল্যে পরিষেবা দেওয়া হবে জানিয়েছেন সমীরবাবু। সাধারণ রোগীর ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হবে ১০ টাকা। দুঃস্থদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।