টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে ০-৪ ব্যবধানে হারের পর জয় দিয়ে এক দিনের সিরিজ় শুরু করল ভারতীয় দল। প্রথম এক দিনের ম্যাচে ২৮ বল বাকি থাকতে ইংল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারালেন শুভমন গিলেরা। রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলি রান না পেলেও শুভমন এবং অক্ষর পটেলের ব্যাটে জয় ছিনিয়ে নিল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে হ্যারি ব্রুকেরা ৪৭.৫ ওভারে করেন ২৫৮ রান। জবাবে ভারত করল ৪৫.২ ওভারে ৪ উইকেটে ২৬২। তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেন শুভমনেরা।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন নিয়ে এক দিনের ক্রিকেট খেলে চলেছেন রোহিত এবং কোহলি। তবে ভারতের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক নিজেদের অজান্তেই সম্ভবত বিশ্বকাপ খেলার পথ কঠিন করে ফেলছেন। শুধু অভিজ্ঞতার জন্য গৌতম গম্ভীর, অজিত আগরকরেরা তাঁদের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে না-ও রাখতে পারেন। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম ম্যাচে দু’জনেই ব্যর্থ। বেশ কয়েক দিন আগে থেকে ইংল্যান্ডে অনুশীলন শুরু করে দিয়েছিলেন দু’জনেই। তা-ও রোহিত ১১ এবং কোহলি ৫ রান করে আউট হয়ে গেলেন। তাঁদের ব্যর্থতায় ৪৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। পরিস্থিতি সামাল দেন শুভমন এবং শ্রেয়স আয়ার। ব্যাট হাতে দলের ইনিংসকে নেতৃত্ব দিলেন শুভমন। ১১টি চার এবং ১টি ছয়ের সাহায্যে ৭৫ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেললেন। তবে মাঠ ছাড়লেন উদ্বেগ বাড়িয়ে। ভারতীয় ইনিংসের ২৬তম ওভারে চোট পেয়ে সাজঘরে ফিরে যান অধিনায়ক। ডান পায়ের থাইয়ের পিছন দিকে টান ধরপে তাঁর। ভারতীয় দলের ফিজিয়ো মাঠে গিয়ে শুশ্রষা করলেও লাভ হয়নি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়েন।
শ্রেয়স করলেন ৫৩ বলে ৩৫। পাঁচ নম্বরে নেমে চাপের মুখে ভাল ব্যাট করলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ব্যর্থ আর এক সিনিয়র ব্যাটার লোকেশ রাহুলও। ছ’নম্বরে নেমে তাঁর অবদান ১ রান। ওয়াশিংটনের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দিলেন অক্ষর। গম্ভীর কেন অলরাউন্ডারদের বেশি গুরুত্ব দেন, তা প্রমাণ করে দিলেন তাঁরা। ওয়াশিংটন খেললেন ৬৩ বলে ৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস। মারলেন ৪টি চার এবং ১টি ছয়। অক্ষরের ব্যাট থেকে এল ৫২ বলে ৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংস। মারলেন ৫টি চার এবং ১টি ছয়। তাঁদের জুটিতে উঠল ১০২ রান।
ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সফলতম মঙ্গলবার এক দিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক হওয়া জশ টঙ্গ। ৫০ রানে ১ উইকেট তাঁর। ৫৫ রানে ১ উইকেট সাম কারেনের। ৬০ রান দিয়ে ১ উইকেট পেলেন জফ্রা আর্চার।
টস জিতে বার্মিংহ্যামের ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ব্রুক। ইংল্যান্ডের শুরুটা ভাল হয়নি। রান পেলেন না জ্যাকব বেথেল (১৪)। এ দিন পরীক্ষামূলক ভাবে তাঁকে দিয়ে ওপেন করায় ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে অন্তত ভরসা দিতে পারলেন না তিনি। বেন ডাকেট করেন ৪৫ বলে ৪৩। মারেন ৬টি চার এবং ২টি ছক্কা। এক দিনের ক্রিকেটে ফিরে ভাল রান করলেন জো রুটও। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক তিন নম্বরে নেমে ৭৬ বলে ৭৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। মূলত তাঁর দায়িত্বশীল ব্যাটিং ইংল্যান্ডকে ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচায়। ব্রুক (১), জস বাটলার (৫), কারেনের (০) ব্যর্থতা চাপে ফেলে দেয় ইংল্যান্ডকে।
৮০ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর রুটের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেন লিয়াম ডসন। তিনি আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৮৩ বলে ৬৮ রান করেন। মারেন ৬টি চার, ১টি ছয়। তাঁর আগে উইল জ্যাকস করেন ১৯ বলে ২০। আয়োজকদের আর কেউ বলার মতো রান করতে পারেননি।
আরও পড়ুন:
প্রায় তিন বছর পর এক দিনের ম্যাচ খেলতে নেমে ভাল বল করলেন জসপ্রীত বুমরাহ। ৩১ রানে ১ উইকেট তাঁর। ৫০ রানে ২ উইকেট প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের। ৬১ রান দিয়ে ২ উইকেট গুরনুর ব্রারের। শুভমনের মতো তিনিও চিন্তা বাড়ালেন ভারতীয় শিবিরের। তরুণ জোরে বোলার নিজের শেষ ওভারে বল করতে এসে পায়ে চোট পেলেন। দৌড় শুরু করার পরই অস্বস্তি অনুভব করেন। সাজঘরের দিকে ইশারা করে সাহায্য চান। শেষ ওভারে একটিও বল করতে পারেননি। খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়েন গুরনুর। ২৭ রানে ১ উইকেট শিবম দুবের। ভারতের সফলতম বোলার অবশ্য অক্ষর। তাঁর ৪ উইকেট ৬২ রানের বিনিময়ে। তিনিই ম্যাচের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পেয়েছেন।