গুরুত্বপূর্ণ নিউ জ়িল্যান্ড সফরের আগে ভারতীয় শিবিরের উদ্বেগ বাড়িয়েছেন জোরে বোলারেরা। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে অর্শদীপ সিংহ, ময়ঙ্ক যাদব, প্রিন্স যাদবদের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাঁচীতে ক্যারিবিয়ানেরা ২৫০ রান তাড়া করেও ম্যাচ জিতেছে। ফলে উদ্বেগ স্বাভাবিক।
লখনউয়ে ১৭১। রাঁচীতে ২৫২। ইনদওরে ২০৯। হায়দরাবাদে ২৪৭। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ়ে চার ম্যাচে মোট ৮৭৯ রান দিয়েছেন ভারতীয় বোলারেরা। নিয়েছেন ২৪ উইকেট। পর পর দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বোলারদের এই দশা শেষ কবে দেখা গিয়েছে মনে পড়ছে না। শুধু তা-ই নয়। ভারতীয় বোলারেরা সিরিজ়ে ‘নো’ এবং ‘ওয়াইড’ মিলিয়ে ২২টি অতিরিক্ত বল করেছেন। চার ম্যাচে ‘ওয়াইড’-এর সংখ্যা ১৯। চতুর্থ ম্যাচে অর্শদীপ একাই করেছেন ছ’টি ‘ওয়াইড’! জসপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ সিরাজকে বাদ দিলে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে চার বছর বাদে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরাতে হয়েছে ভুবনেশ্বর কুমারকে।
ভুবনেশ্বরের দলে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন নেই। ধারাবাহিক ভাবে ভাল পারফর্ম করেই ভারতীয় দলে আবার জায়গা করে নিয়েছেন ক্রিকেটজীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে। উদ্বেগ তরুণ বোলারদের নিয়ে। রাঁচী ম্যাচের পর পিচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আপনারা কি ব্যাট-বলের ভাল লড়াই দেখতে চান না? আপনারা যা দেখতে চান, আমরা সেটাই দেখতে চাই। আপনারা লড়াই দেখতে চাইলে, আমরাও লড়াই দেখতে চাই। মনে রাখতে হবে ওরা আমাদেরই বোলার। অন্য কোনও দলের নয়। এ ভাবে বোলারদের ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ওদের ক্রিকেটজীবন শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। ওরাও কঠোর পরিশ্রম করে এই সাজঘরে ঢোকার ছাড়পত্র পেয়েছে। ব্যাট-বলে সমানে সমানে লড়াই হলে অনেক ভাল মানের ক্রিকেট আমরা দেখতে পাব।’’
সিরিজ় শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। বোলারদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘‘যখন আপনি বিশ্রামের পর্যাপ্ত সময় পান, তখন মানসিক ভাবে ফুরফুরে থাকেন। সেই সময় পরিকল্পনা অনেক ভাল ভাবে কাজে লাগানো যায়। আমাদের কাছে সময় কম। এই সিরিজ় শেষ হতেই নিউ জ়িল্যান্ডে যেতে হবে। ফলে বোলারদের বিশ্রামই হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “আমি ওদের সম্মান করি। এই ঠাসা সূচির মধ্যেও ওরা নিজেদের ১০০ শতাংশ দিচ্ছে। এশিয়ান গেমস থেকে টানা ক্রিকেট চলছে। ওরা মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। তার পরেও চেষ্টা করে যাচ্ছে। ওরাও তো মানুষ। সেটা বুঝতে হবে।”
মাত্রাতিরিক্ত ক্রিকেটীয় ধকল জোরে বোলারদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। বাড়ছে চোট-আঘাতের সমস্যাও। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যে আন্তর্জাতিক সূচি চূড়ান্ত করছে, তাতে বৈজ্ঞানিক ভাবনা-চিন্তার অভাব স্পষ্ট। ক্রিকেটারদের টানা খেলিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভাবা হচ্ছে না তাঁদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা। প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হচ্ছে না। ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগও পাচ্ছেন না ক্রিকেটারেরা।
আরও পড়ুন:
গম্ভীর, মর্কেলরা ক্রিকেটারদের দোষ দিতে নারাজ। তাঁরা সূচি, পিচ নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। একটা সময় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের অন্যতম ভরসা ছিলেন অর্শদীপ। তাঁর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। ময়ঙ্ক বা প্রিন্সও প্রত্যাশার কাছাকাছি পৌঁছোতে পারছেন না। ব্যাটারেরা ওভার প্রতি প্রায় সাড়ে ১১ রান তোলার পরও ম্যাচ হারতে হচ্ছে ভারতকে। বোর্ড কর্তাদের টনক কি নড়বে? নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজ়ের আগে এটাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।