সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রায় ১১ বছরের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু পুরসভা, পঞ্চায়েত, বোর্ড-কর্পোরেশন, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী তথা লক্ষ লক্ষ গ্রান্ট-ইন-এড (অনুদানপ্রাপ্ত) কর্মীদের সেই বকেয়ার ভবিষ্যৎ এখনও অজানা। বিষয়টি নিয়ে সংশয় ক্রমশ গভীর হচ্ছে কর্মচারী সংগঠনের মধ্যেও। ফের এ নিয়ে আইনি জট তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা দানা বাঁধছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর কথা গত মার্চে জানিয়েছিল রাজ্য। এই প্রাপ্যের হিসাব কষে ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাকি ডিএ-র পুরোটা একবারে মিটিয়ে দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে কিছুদিন আগে। কিন্তু এই ডিএ পাবেন সরাসরি সরকারি কর্মচারী এবং সেই গোত্রের পেনশনভোগীরাই। সেই তালিকায় আপাতত গ্রান্ট-ইন-এড কর্মী বা সেই গোত্রের অবসরপ্রাপ্তদের কোনও উল্লেখ নেই। ফলে সংশ্লিষ্টরা ধরে নিচ্ছেন, কমবেশি আট লক্ষ তেমন কর্মী আপাতত বকেয়া ডিএ পাচ্ছেন না। প্রশাসনের অন্দরের একটি অংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টে মামলা ছিল প্রধানত সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের (৩-৩.৫ লক্ষ) বকেয়া নিয়ে। ফলে সর্বোচ্চ আদালতের বকেয়া সংক্রান্ত রায় তাঁদের জন্যই। গ্রান্ট-ইন-এড-দের তা পেতে হলে সুপ্রিম কোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট রায় তাঁদের পক্ষেও স্পষ্ট করিয়ে আনতে হবে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির অনেকের পাল্টা দাবি, সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীন বিগত তৃণমূল সরকার সরাসরি সরকারি কর্মচারী, গ্রান্ট-ইন-এড এবং অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়ার হিসাব জমা দিয়েছিল। অর্থাৎ, সেখানে এই তিন গোত্রের কর্মীরা যে রাজ্য সরকারেরই অঙ্গ,তা তখন কার্যত মেনে নেয় তারা। ফলেএখন নতুন তত্ত্বের অবতারণা অপ্রত্যাশিত। ওই সময়ে রাজ্য আদালতের কাছে হিসাব দিয়েছিল: ২০০৬-এর ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটাতে সরাসরি সরকারি কর্মচারীদের খাতে প্রায় ১১,৭৯০ কোটি, গ্রান্ট-ইন-এডদের জন্য প্রায় ১৮,৩৬৯ কোটি ও পেনশনভোগীদের খাতে প্রায় ১১,৬১১ কোটি টাকা খরচ হবে ।
নবান্ন জানিয়েছে, সরাসরি কর্মচারী গোত্রের গ্রুপ এ-বি এবং সি কর্মীদের বকেয়া দেওয়া হবে তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (জিপিএফ)। গ্রুপ-ডি কর্মীরা তা পাবেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। জিপিএফে জমা হওয়া এই অর্থ ২০২৮ সালের ৩১ মার্চের আগে তোলা যাবে না। অবসর, মৃত্যু বা পদত্যাগের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে তা ব্যতিক্রম হবে। পাশাপাশি, অবসরের তিন মাসের মধ্যে যাঁদের চূড়ান্ত জিপিএফ নিষ্পত্তি হওয়ার কথা, তাঁদের বকেয়া অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সমান্তরালে অর্থ দফতর এ-ও জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ‘হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা এইচআরএমএস-এর মাধ্যমে হয়নি, তাঁদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা হবে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য, “সরকার বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বকেয়া ডিএ মেটানো হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ব্যাখ্যাটা ওরা অন্যভাবে করছে। ওরা বলছে, রায়ে যেহেতু গ্রান্ট ইন এডের কথাটা উল্লেখ নেই তাই সেই কর্মীরা এর আওতায় পড়ে না। কিন্তু আমাদের মতে, সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু বলেছে ‘এমপ্লয়ি অব দ্য স্টেট’ তাই গ্রান্ট ইন এডের কর্মীরাও এর আওতায় পড়বেন।“