E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শুধু কর্মসূচি, নাছোড় আন্দোলন কই, প্রশ্ন সিপিএমের অধিবেশনে

রাজ্যে পালাবদলের পরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যালোচনা করতে বসে এই সংঘাত ও প্রশ্নে বিদ্ধ হতে হল সিপিএম নেতৃত্বকে।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ৩১ অগস্ট ২০২৬ ০৮:৩৬
সিপিএমের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের পরে সমাবেশে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কল্যাণীতে।

সিপিএমের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশনের পরে সমাবেশে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কল্যাণীতে। নিজস্ব চিত্র।

নেতারা বারংবার বার্তা দিচ্ছেন, নিচু তলাকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আর নীচ থেকে থেকে প্রশ্ন উঠছে, পরিস্থিতির উপযোগী রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক না-করলে শুধু নিচু তলাকে দেখিয়ে কী হবে?

রাজ্যে পালাবদলের পরে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যালোচনা করতে বসে এই সংঘাত ও প্রশ্নে বিদ্ধ হতে হল সিপিএম নেতৃত্বকে। কল্যাণীতে সিপিএমের রাজ্য কমিটির দু’দিনের বর্ধিত অধিবেশনে দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে নানা প্রশ্নেই সরব হলেন বিভিন্ন জেলার নেতারা। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে এল দলের উপর তলার ‘দায়’ নেওয়ার প্রসঙ্গ! সূত্রের খবর, একাধিক জেলা থেকেই বক্তারা অধিবেশনে বলেছেন, লাগাতার বিভিন্ন নির্বাচনের আগে দল যা প্রত্যাশা করছে আর বাস্তবে যা হচ্ছে, দু’টোর মধ্যে অনেক ফারাক থাকছে। শুধু এরিয়া বা শাখা কমিটির ‘নিষ্ক্রিয়তা’র কথা বলে দায় এড়ানো যায় কি? রাজ্যে এ বারের পরিবর্তনের পরে অল্প দিনের মধ্যেই বামেদের কর্মসূচিতে ভাল ভিড় হচ্ছে, সাড়া মিলছে। কিন্তু রাজ্য বা জেলা স্তরে যা হচ্ছে, স্থানীয় স্তরে তেমন হচ্ছে না। নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবকেই এর জন্য দায়ী করছেন জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্বের বড় অংশ।

হুগলির ডানকুনিতে সিপিএমের রাজ্য সম্মেলন হয়েছিল ২০২৫ সালে। মাদুরাইয়ের পার্টি কংগ্রেসও হয়ে গিয়েছে বাংলা, কেরল বা তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের আগে। এই সব রাজ্যেই দলের রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন ডেকে পরিস্থ্তি পর্যালোচনা করছে সিপিএম। নদিয়ার কল্যাণীতে এই অধিবেশনে রাজ্য কমিটির সদস্য নন, বিভিন্ন জেলা ও গণসংগঠনের এমন নেতাদেরই বলতে দেওয়া হয়েছিল। সিপিএম সূত্রের খবর, আলোচনায় একাধিক বার উঠে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ। পরীক্ষা কেলেঙ্কারির উদাহরণ টেনে প্রশ্ন উঠেছে, ছাত্র আন্দোলনে সিজেপি-র পাশাপাশি বামেরাও ছিল। এমন বহু প্রতিবাদই বামেরা করে থাকে। কিন্তু কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি অনড় ছিল এবং পদত্যাগের পরেই অবস্থান প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই রকম নাছোড় অবস্থান বামেরা বা সিপিএম নিতে পারছে না কেন? দলের এক রাজ্য নেতাও মানছেন, ‘‘নির্দিষ্ট দাবি নিয়ে সেটা আদায়ের জন্য ঝাঁঝ না-বাড়ালে শুধু কর্মসূচি হয়ে যাচ্ছে। বড় প্রতিবাদ বা আন্দোলনের চেহারা নিচ্ছে না!’’ এ বার পুজোয় বামপন্থীদের বইয়ের স্টল করা নিয়েও বিজেপির সঙ্গে সংঘাত বাধতে পারে, সেই আশঙ্কাও উঠেছে।

সূত্রের খবর, অধিবেশনে জবাবি ভাষণে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রাজ্যে বিজেপি জমানায় প্রকৃত বিরোধী ভূমিকা পালনে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভাবে যত্নবান হওয়ার কথা বলেছেন। পরে কল্যাণী স্টেশন লাগোয়া রেল ময়দানে সমাবেশ থেকেও একই আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। বৃষ্টির মধ্যে সমাবেশে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো, প্ল্যাটফর্মেও জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় রেল-মাঠে বলেছেন, ‘‘সাড়ে তিন মাস বিজেপি সরকার চালাচ্ছে, এর মধ্যেই সাপের পাঁচ পা দেখেছে! আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। বিধানসভায় সংখ্যা থাকলেই বিরোধী হওয়া যায় না! রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেহনতির পক্ষে যারা লড়াই করে, তারাই আসল বিরোধী।’’ সেলিমের বক্তব্য, ‘‘ফ্যাসিবাদীরা ভয় দেখাতে চায়। আমরা ভয় পাচ্ছি না। বাম বনাম দক্ষিণপন্থী সরাসরি লড়াই এখন। তৃণমূল কংগ্রেস নামের পর্দা উঠে গিয়েছে। ফসলের দাম, স্কুলের দাবি, বেকারের কাজ, গরিবের কাজ-আবাসের টাকা, ভোটের অধিকার, মেয়েদের সম্মানের দাবিতে লড়াই তীব্র হবে।’’

পাড়ায় দৃশ্যমানতা হচ্ছে কি না দায় নিতে হবে সব চেয়ে বেশি আক্রমণ হবে পুজোর স্টলে ভগবান মানে না, তারা কেন স্টল নিয়ে থাকবে, এই প্রশ্ন আসবে রাজ্য কমিটির জলো কমিটির সদস্য ব্রাঞ্চ কাজ করছে কি না দায় নিচে হবে আমার চেক আপ করবে কে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
CPIM Kalyani

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy