এলাকায় জল ঢুকে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত মালদহের ভূতনি এবং হুগলির আরামবাগে। রাজ্যের অন্যত্র নতুন করে কিছু জায়গা জলমগ্ন হয়েছে। ঘাটালে স্পিডবোট পাঠিয়ে উদ্ধার করতে হয়েছে এক বৃদ্ধ এবং এক বৃদ্ধাকে। তবে জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কমায় শনিবার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেছেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক।
মালদহের মানিকচকের ভূতনিতে বাঁধ ভেঙে ২০টি গ্রাম প্লাবিত। ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০ হাজার। ত্রাণ শিবিরে রান্না করা খাবারের পাশাপাশি, শুকনো খাবারও দেওয়া হচ্ছে। এ দিন সেখানে রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মুকে পেয়ে ত্রাণের ত্রিপল, শুকনো চিঁড়ে-গুড়ের বদলে পুনর্বাসনে পাকা বাড়ির দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্তেরা। মন্ত্রী বলেন, “ভাঙন রোধে বড় ব্যবস্থানেওয়া হচ্ছে।”
হুগলির আরামবাগ মহকুমার খানাকুলের দক্ষিণ প্রান্তে রূপনারায়ণ নদ ভরা থাকায় দামোদর নদ এবং মুণ্ডেশ্বরী নদীর জল নামতে দেরি হচ্ছে। নতুন করে জল ঢুকেছে খানাকুলের দু’টি ব্লকে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, আরামবাগ মহকুমায় বন্যাদুর্গত ১,৯৮,৮৪০ জন। খানাকুলের দু’টি ব্লকেই ৯২ হাজার। এ দিন খানাকুল ২ ব্লকে ২৮ হাজার বাসিন্দাকে ত্রাণশিবিরে আনা হয়েছে। খানাকুল ১ ব্লকে ২৪টি ত্রাণ শিবিরে আছেন ১৮ হাজার মানুষ। এ দিন খানাকুলে বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা এবং স্বাস্থ্যশিবির পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। তবে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় কুঁয়ে নদীর জলস্ফীতিতে ডুবেছে প্রায় ছ’হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি। জলবন্দি প্রায় পনেরোটি পরিবার। বড়ঞার বিধায়ক বিজেপির সুখেন বাগদি বলেন, ‘‘জল বেড়েই চলেছে। ধানের জমি ডুবে চাষিদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নজরে আনব।’’ পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল পুর-শহরের পশ্চিম পাড়ের ১২টি ওয়ার্ড-সহ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায়। এ দিন সকালে ঘাটাল ব্লকের গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামে বয়সজনিত কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচৈতন্য হন দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। স্পিডবোটে উদ্ধার করে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। দু’জনেরই অবস্থা স্থিতিশীল।
পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরও দীর্ঘদিন ঘরে জলমগ্ন। জমি-জটের কারণে বাঘুই খালের ফাঁকা অংশে বাঁধ তৈরি করা যায়নি। ফলে, বাঘুই খাল ও কেলেঘাই নদীর জল পটাশপুরকে বারবার প্লাবিত করছে। রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপ দাসের আশ্বাস, ‘‘কেলেঘাই নদী সংস্কার করে দ্রুত জল নামানোর ব্যবস্থা করবে সরকার।’’
বৃষ্টি কমায় জল ছাড়ার হারও কমেছে নানা জলাধার থেকে। এ দিন দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে সন্ধ্যা ৬টায় জল ছাড়ার হার নেমে এসেছে ৬৯,৮২৫ কিউসেকে।