Advertisement
E-Paper

নেপালে হড়পা বানের পর থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না শতাধিক ভারতীয় পর্যটকের! যাচ্ছিলেন কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে

বুধবার নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল পর্যটকদের। কিন্তু তার আগেই রাসুয়াগড়ির কাছে নিখোঁজ হয়ে যান পর্যটকেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০২৬ ১৬:০১
বুধবার সকালে নেপালে হড়পা বান।

বুধবার সকালে নেপালে হড়পা বান। ছবি: এএফপি এবং পিটিআই।

নেপালে হড়পা বানের পর থেকে খোঁজ মিলছে না শতাধিক ভারতীয় পর্যটকের। বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীতে হড়পা বান নামে। নেপাল পর্যটন পর্ষদ জানাচ্ছে, তার পর থেকে অন্তত ২৯১ বিদেশি-সহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনও খোঁজ মিলছে না। তাঁদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় (৩৭ অনাবাসী-সহ)। তাঁদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানাচ্ছে, তাঁরা সকলেই কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের জন্য যাচ্ছিলেন।

বুধবার নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাওয়ার কথা ছিল পর্যটকদের। কাঠমান্ডুর এক পর্যটন সংস্থার আধিকারিক বাসুকুমার অধিকারী জানান, এ দিন ৯৩ জন নেপালি-সহ প্রায় ৪০০ জনকে নিয়ে সীমান্ত পার করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু ধস নামার পর থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত দুই-এক জন ছাড়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁরা।

এ দিনের বিপর্যয় মনে করিয়ে দিচ্ছে ২৮ বছর আগের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা। ১৯৯৮ সালের অগস্টে উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ের মলপা গ্রামে ধস নেমেছিল। বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২২১ জন। তাঁদের মধ্যে ৬০ পুণ্যার্থীও ছিলেন। তাঁরাও যাচ্ছিলেন কৈলাস -মানস সরোবর যাত্রায়। মাটি এবং পাথরের স্তূপ সরিয়ে মৃতদের দেহ উদ্ধার করতে লেগে গিয়েছিল বেশ কয়েক দিন সময়। এ বার নেপালে ভোটেকোশী নদীর এই হড়পা বান এবং তার পরবর্তী বিপর্যয় ফিরিয়ে আনছে আড়াই দশক আগের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি।

তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া রাসুয়ায় হড়পা বানের জেরে এ দিন ওই জেলায় বিভিন্ন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বানের জলের তোড়ে ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি, গাড়ি। ভেঙে যায় সেতু। এরই মধ্যে প্রায় ৪০০ পর্যটক রাসুয়াগড়ির কাছে নিখোঁজ হয়ে যান। নেপাল পর্যটন পর্ষদ জানাচ্ছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১৪২ জন ভারতীয়। তাঁরা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে দু’টি দলে ৫৯ জন এবং ৪৬ জন ভারতীয় রয়েছেন। তৃতীয় দলটিতে রয়েছেন ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়।

বিপর্যয়ের পর নেপালে ভারতীয় দূতাবাস থেকে দু’টি ফোন নম্বরও চালু করা হয়েছে। নিখোঁজ বা হড়পা বানে প্রভাবিত ভারতীয়দের বিষয়ে কোনও তথ্যের জন্য ওই নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। নম্বরগুলি হল +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়ার ১৭ জন, ব্রিটেনের ১২ জন, সাউথ আফ্রিকার চার জন, আমেরিকার তিন জন, অস্ট্রেলিয়ার এক জন এবং নেদারল্যান্ডসের এক জন পর্যটক। বাকি ১১১ জন বিদেশি কোন দেশের নাগরিক, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

নেপালের ট্রেকিং সংস্থাগুলির সংগঠনের সভাপতি সাগর পাণ্ডে জানান, নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগের সবরকম চেষ্টা চলছে। তাঁরা কী অবস্থায় রয়েছেন, তা-ও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন সকাল থেকে রাসুয়ার আকাশ পরিষ্কারই ছিল। রোদও উঠেছিল। এরই মধ্যে সকাল ৯টা নাগাদ আচমকা নদীর জলস্তর বেড়ে যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমান, তিব্বতের দিক থেকে প্রবেশ করেছে বন্যার জল। প্রাথমিক ভাবে খবর, চিন সীমান্তবর্তী তিমুরে এবং স্যাব্রুবেসী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ।

হড়পা বানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তিব্বতেও। চিনা কর্তৃপক্ষের দাবি, নেপালের দিকে হওয়া হড়পা বানের জেরে তিব্বতের গাইরং প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিনা সংবাদসংস্থা জিনহুয়া জানাচ্ছে, বিপর্যয়ের জেরে সেখানেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংক্ষেপে
  • ত্রাণ যেমন পাঠানো হচ্ছে, তেমনই আর্থিক সাহায্যও পাঠানো হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।
  • বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে অনেকেই। বিভিন্ন সংস্থা তো বটেই, ব্যক্তিবিশেষও সাহায্য পাঠাচ্ছেন নেপালে।
  • হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ল। এখনও নিখোঁজ দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
Flash flood Nepal Tibet

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy