Advertisement
E-Paper

মহাকাশেও অস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে আমেরিকা! এই প্রথম বার স্বীকার করল মার্কিন বাহিনী, চ্যালেঞ্জ কি রাশিয়া এবং চিনকে?

মহাকাশে আমেরিকার ‘আধিপত্যকে’ বার বার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে রাশিয়া এবং চিন। নিজেদের কৃত্রিম উপগ্রহগুলিকে রক্ষা করতে ২০১৯ সালে মহাকাশ বাহিনীও গড়ে তোলে আমেরিকা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৩০

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

মহাকাশেও অস্ত্র মোতায়েন করে ফেলেছে মার্কিন বাহিনী। এ নিয়ে গুঞ্জন আগে থেকেই ছিল। এ বার তা আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বীকার করে নিল আমেরিকা। জানিয়ে দিল, শত্রুপক্ষের হাত থেকে আমেরিকাকে বাঁচাতে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করেছে তারা। মার্কিন বাহিনীর এমন প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি এই প্রথম।

আমেরিকার যে এই পরিকল্পনা রয়েছে, তা আগেই জানা গিয়েছিল। মার্কিন সামরিক কর্তারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, আমেরিকার সামরিক শক্তি মহাকাশেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। মূলত রাশিয়া এবং চিনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এই পরিকল্পনা করছিল আমেরিকা। তবে তারা যে ইতিমধ্যে সেই লক্ষ্যে সফলও হয়ে গিয়েছে, তা এত দিন জানা ছিল না।

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা সোমবার স্বীকার করে নেন মার্কিন বায়ুসেনার সচিব ট্রয় মেইঙ্ক। এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে বক্তৃতার সময়ে তিনি বলেন, “শত্রুর হাত থেকে মার্কিন বাহিনীকে বাঁচাতে এই ‘অন-অরবিট’ (মহাকাশে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে সক্রিয় অবস্থায় থাকা) অস্ত্রটির দরকার ছিল।” তাঁর দাবি, আমেরিকার উপর যে ভাবে হুমকি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা সামাল দেওয়ার জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত। তবে সেটি কী ধরনের অস্ত্র, তার কী ক্ষমতা, কী ভাবে কাজ করে বা কবে সেটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে, তা নিয়ে কোনও বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি মার্কিন বায়ুসেনা সচিব।

আমেরিকার এই ঘোষণার পরে মুখ খুলেছে চিনও। মহাকাশে কোনও ‘অস্ত্র প্রতিযোগিতায়’ না নামার জন্য বলেছে পেন্টাগনকে। বেজিঙের বিদেশ মন্ত্রকের এক মুখপাত্র এএফপি-কে বলেন, “আমরা চাই আমেরিকা তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং মহাকাশ যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করুক।”

মার্কিন বাহিনী কী ধরনের অস্ত্র মহাকাশে পাঠিয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। তবে এই ধরনের কোনও অস্ত্র আক্রমণ কিংবা আত্মরক্ষা— উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট-এর গবেষক ব্লেডিন বোয়েনের মতে, আমেরিকা আসলে কী পাঠিয়েছে, তা বোঝা মুশকিল। শুধু অনুমানই করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁর অনুমান, আমেরিকা হয়তো কোনও ‘রেডিয়ো জ্যামিং প্লাটফর্ম’ (রেডিয়ো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত করার যন্ত্র) ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে থাকতে পারে। কিংবা এমন কোনও মহাকাশযান যা ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় কিছু ছুড়তে পারে। যার আঘাতে কোনও উপগ্রহ ধ্বংস করে দেওয়া যেতে পারে। তবে দ্বিতীয়টির সম্ভাবনা কম বলেই মনে করেন তিনি। কারণ, এই ধরনের ক্ষেত্রে প্রচুর ধ্বংসাবশেষ জমা হতে পারে মহাকাশে।

বস্তুত, মহাকাশে ব্যাপক স্তরের কোনও বিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন করা আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী নিষিদ্ধ। ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তিতে (আউটার স্পেস ট্রিটি) এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে জড়িত শতাধিক দেশ এই চুক্তির আওতায় রয়েছে। ওই চুক্তির পর থেকেই আমেরিকা, রাশিয়া, চিন-সহ বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি এমন কিছু উপায় বার করার চেষ্টা শুরু করে, যা ওই চুক্তির আওতায় পড়বে না। এরই মধ্যে ২০১৯ সালে পেন্টাগন চালু করে মার্কিন মহাকাশ বাহিনী। যার মূল লক্ষ্য হল মহাকাশে আমেরিকার শয়ে শয়ে কৃত্রিম উপগ্রহ এবং অন্য সম্পত্তি রক্ষা করা।

গত কয়েক বছরে মহাকাশে উত্তেজনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর খবর ছড়ায়, দু’টি রুশ কৃত্রিম উপগ্রহ সম্ভবত ইউরোপের বেশ কিছু কৃত্রিম উপগ্রহের উপরে ‘গোয়েন্দাগিরি’ করছে। দু’বছর আগে আমেরিকা দাবি করে, রাশিয়া এমন একটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে, যা অন্যের কৃত্রিম উপগ্রহকে নিশানা করতে পারে বলে সন্দেহ করছে তারা। যদিও এ সব বিষয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।

মহাকাশ অভিযানে আমেরিকার ‘আধিপত্যকে’ সাম্প্রতিক সময়ে বার বার চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে রাশিয়া এবং চিন। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর ওয়েবসাইটে লেখা আছে, “চিন তাদের সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য মহাকাশ শক্তিকেও বৃদ্ধি করছে।” আবার রাশিয়া প্রসঙ্গে লেখা আছে, “রাশিয়া মহাকাশকে একটি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখে। তারা বিশ্বাস করে, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাতের সময়ে মহাকাশের আধিপত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।” ঠিক এমন এক পরিস্থিতিতে আমেরিকার এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

US Space weapon

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy