শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠ আরও সাত জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এই ট্রাইবুনালই গত বছরের নভেম্বরে হাসিনার ফাঁসির রায় দেয়। পরবর্তী সময়ে আরও বেশ কয়েক জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ বার সেই একই ট্রাইবুনাল ফাঁসির সাজা দিল হাসিনা-ঘনিষ্ঠ সাত নেতাকে। তবে বর্তমানে তাঁরাও কেউই বাংলাদেশে নেই।
২০২৪ সালে হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের সময়ে তৎকালীন সরকার এবং শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছিল। একাধিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে সে সময়ে। হাসিনার পতনের পরে ওই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে মামলা শুরু হয়। তাতে দোষী সাব্যস্ত হন হাসিনা। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল। এ বার সেই একই মামলায় হাসিনা আমলের এক মন্ত্রী-সহ সাত জনের মৃত্যুদণ্ড দিল ট্রাইবুনাল।
মঙ্গলবার ট্রাইবুনালের তিন বিচারপতির বেঞ্চ তাঁদের ফাঁসির সাজা ঘোষণা করে। সাজাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন তথ্য-সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলি আরাফত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
আরও পড়ুন:
এই নিয়ে ২০২৪ সালের ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ মামলায় ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনই বর্তমানে রয়েছেন বাংলাদেশের বাইরে। চার জন আছেন জেলে।
গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঙ্গে আরও দু’জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইবুনাল। বাংলাদেশের প্রাক্তন পুলিশকর্তা চৌধুরী আবদুল্লা আল-মামুনকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে তিনি রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় মামুনকে। পরে গত জানুয়ারিতে ঢাকার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, প্রাক্তন যুগ্ম কমিশনার সুদীপকুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের প্রাক্তন অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার শাহ আলম মুহাম্মদ আখতারুল ইসলামেরও ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হয়।