ইরানের দুই বন্দর শহরে মার্কিন হামলার পর এ বার উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার ‘বন্ধুদের’ সতর্ক করে দিল তেহরান। উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনও দেশ থেকে আমেরিকা ইরানের উপর হামলা চালালে, তার পরিণাম ভুগতে হবে সেই দেশগুলিকে। ইরানের সামরিক বাহিনীর হুঁশিয়ারি, উপসাগরীয় অঞ্চলের কেউ আমেরিকাকে সাহায্য করলে তারা যেন প্রত্যাঘাতের জন্যও তৈরি থাকে।
উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে আমেরিকার বিভিন্ন ‘বন্ধু রাষ্ট্র’। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরিন, ওমানে একাধিক জায়গায় মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে এই ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে বার বার হামলা চালিয়েছে ইরান। এ বার ইরানের হুঁশিয়ারি, উপসাগরীয় দেশগুলি যদি আমেরিকাকে ইরানের উপর হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়, তবে প্রত্যাঘাত শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলির মধ্যেই সীমিত থাকবে না।
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার-ইন-চিফের উপদেষ্টা হামিদরেজা মোকাদ্দামফা বুধবার বন্দর আব্বাসে এক সভায় বক্তৃতা করছিলেন। সেখানেই তিনি আমেরিকার ‘বন্ধুদের’ উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, আমেরিকা বা ইজ়রায়েলের যে কোনও হামলার জবাব দিতে ইরান ‘নতুন প্রযুক্তি’ ব্যবহার করবে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বা বাহরিনের মতো দেশগুলি যদি ইরানের উপর হামলার সুযোগ করে দেয়, তবে তাদের আরও বড় ধরনের প্রত্যাঘাতের জন্য তৈরি থাকতে হবে।”
আরও পড়ুন:
গত সোমবারই ইরানের হরমুজ় প্রণালী লাগোয়া কাশেম বন্দর এবং বন্দর-এ-লেঙ্গেহ শহরে ঘন ঘন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের অভিযোগ, মার্কিন বাহিনীই হামলা চালিয়েছে ওই দুই শহরে। কাশেম বন্দরের বাসিন্দারা দাবি করেন যে, আকাশ মার্কিন বিমানকে চক্কর কাটতে দেখেছেন তাঁরা। এই হামলার ঠিক আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান আলোচনায় বসতে চাইছে আমেরিকার সঙ্গে। ইরানের উপর নতুন করে কোনও হামলা হবে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ওই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরপরই ইরানের দুই বন্দর শহরে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।