মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভ অব্যাহত। বুধবারও ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। কোথাও আগুন ধরানো হয়েছে পুলিশের গাড়িতে। কোথাও চলেছে ইটবর্ষণ। বিক্ষোভ-আন্দোলনের অস্বস্তির মাঝে বুধবার সকালেই মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বদলে ফেলেছে তারেক রহমানের সরকার। ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী মাস থেকে নতুন মজুরি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে ওই বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন শ্রমিকেরা।
বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকদের দাবি, তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার টাকা) করতে হবে। এই দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই টানা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। গত রবিবার থেকে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নিতে শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকা এবং সংলগ্ন এলাকায় একাধিক বার পুলিশের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বুধবারও ঢাকার সাভারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিক্ষোভকারীরা। চলে ইটবৃষ্টি। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ। বিক্ষোভ চলাকালীন সাভারে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন শেখ আশফাকুর রহমান। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর উপর ভরসা রাখতে পারছিলেন না শ্রমিকেরা। তা নিয়ে ক্ষোভও ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার সকালেই বাংলাদেশের আইন মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে আশফাকুরকে বদলি করে দেয়। তাঁর বদলে বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান করা হয় সৈয়দ আজাদ সুবহানীকে। বুধবার সকালে ঢাকার সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের অফিসে পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকও করেন নতুন চেয়ারম্যান।
আরও পড়ুন:
বৈঠক শেষে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, পোশাকশিল্পে ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হবে। জানুয়ারি থেকে বর্ধিত বেতন হাতে পাবেন শ্রমিকেরা। এ দিনের বৈঠকে এমনটাই আলোচনা হয়েছে বলে জানান তাঁরা। তবে শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি পেয়ে কত হবে, তা নির্দিষ্ট ভাবে জানানো হয়নি। বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান বলেন, “পরবর্তী বৈঠকে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ পৃথক ভাবে তাদের মজুরি প্রস্তাব জমা দেবেন। পাশপাশি নিরপেক্ষ সদস্যও একটি মজুরি প্রস্তাব দেবেন। তারপর সেই মজুরি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।”
বেতনবৃদ্ধির দাবি নিয়ে আলোচনা চললেও অশান্তি বন্ধ হয়নি। ঢাকার সাভারের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাতেও এ দিন পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান শ্রমিকেরা। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে পথ অবরোধের চেষ্টাও করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। আটও করা হয় বেশ কয়েক জনকে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয় গাজীপুরেও।