পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশের একাংশ। অশান্তি গাজীপুরে। মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরে উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের তাড়া করে পুলিশ। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা ইটবৃষ্টি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ এবং বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে গাজীপুরে এ দিন দুপুর পর্যন্ত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরেরই অন্তত ৬০টি কারখানা আপাতত বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত বাংলাদেশ। গাজীপুরে বিভিন্ন দিকে পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। অবরোধ, বিক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি। তার পরেই তা ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা পুলিশ-সহ বিভিন্ন গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। গাজীপুর শিল্পঞ্চাল পুলিশের সুপার আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শুধু শ্রমিকেরা নেই, বাইরে থেকেও ইন্ধন জোগানো হচ্ছে। শ্রমিক নন, এমন সাত জনকে মঙ্গলবার সকাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে সকাল থেকে অচল হয়ে পড়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় সড়ক। পরিবহণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। জাতীয় সড়কের উপর বসে অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। রাস্তার উপর বাঁশ ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুরের পর থেকে ওই মহাসড়কের উপর আবার যান চলাচল সচল হয়।
প্রথম আলো সূত্রে খবর, ঢাকা-ময়মনসিংহ জাতীয় সড়কের ভোগড়া এলাকায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ হয়। রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিক্ষোভকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। এক সময়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। ইটের ঘায়ে কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হন বলে খবর। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কয়েক জন বিক্ষোভকারী তাতে আহত হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ড্রোন ওড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শুধু গাজীপুর নয়, মঙ্গলবার সকালে মিরপুরের কয়েক জায়গায় কাঠের আসবাব জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান পোশাকশ্রমিকদের একাংশ। বিক্ষোভ ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। বেলা বাড়তেই মিরপুর-১০ নম্বর, নান্না মার্কেট এলাকার বিভিন্ন গলি এবং মিরপুর-১২ নম্বরের দিক থেকে দলে দলে শ্রমিক এসে বিক্ষোভে যোগ দিতে থাকেন। এক সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন তাঁরা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণ করতে মিরপুরেও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। লাঠিচার্জও করে। বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার টাকা) করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ শুরু করেছেন বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকেরা। রবি, সোমবারেও প্রতিবাদে নামেন আন্দোলনকারীরা। মিরপুর এবং গাজীপুরের কিছু এলাকায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় রাস্তার উপরে। কোথাও পোড়ানো হয় পুলিশের গাড়ি, কোথাও অগ্নিসংযোগ হয় পিকআপ ভ্যানে।