বাংলাদেশে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত মঙ্গলবারেও। মঙ্গলবার ঢাকার মিরপুরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সকালে মিরপুরের ১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের কাছে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন পোশাকশ্রমিকদের একাংশ। জমায়েত থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। জমায়েত হটাতে পাল্টা সাউন্ড গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের সেল ছোড়ে পুলিশ। লাঠিচার্জও করা হয়।
বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুসারে, মঙ্গলবার সকালেই মিরপুরের কয়েক জায়গায় কাঠের আসবাব জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান পোশাকশ্রমিকদের একাংশ। বিক্ষোভ ঠেকাতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। বেলা বাড়তেই মিরপুর-১০ নম্বর, নান্না মার্কেট এলাকার বিভিন্ন গলি এবং মিরপুর-১২ নম্বরের দিক থেকে দলে দলে শ্রমিক এসে বিক্ষোভে যোগ দিতে থাকেন। এক সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন তাঁরা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ হাজার টাকা) করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ শুরু করেছেন বাংলাদেশের পোশাকশ্রমিকেরা। রবিবার সকালেও প্রতিবাদে নামেন আন্দোলনকারীরা। মিরপুর এবং গাজীপুরের কিছু এলাকায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় রাস্তার উপরে। কোথাও পোড়ানো হয় পুলিশের গাড়ি, কোথাও অগ্নিসংযোগ হয় পিকআপ ভ্যানে। রবিবারের ওই অশান্তির ঘটনায় রাতেই ঢাকা এবং গাজীপুরে ধরপাকড় শুরু হয়। রবিবার রাত পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ৪৯ জনের মধ্যে অনেকেই আওয়ামী লীগ এবং তার শাখা সংগঠনের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি পুলিশের।
বাংলাদেশে শ্রমিক বিক্ষোভের নেপথ্য আওয়ামী লীগের যোগ থাকার তত্ত্ব রবিবারই তুলে ধরেছিল তারেক রহমানের বিএনপি সরকার। সোমবার সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে তারা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, যে সব পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত, অস্থিরতার নেপথ্যে তাঁরাই রয়েছেন। একই দাবি করেন তারেকের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও। এ সবের নেপথ্যে ‘নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের’ যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।