এই প্রথম মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটের সদস্য হচ্ছেন একজন মুসলিম। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে কার্যত নীল (ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাচনী রং) ঝড়ে বেসামাল ডোনাল্ড ট্রাম্পদের লাল (রিপাবলিকান পার্টির নির্বাচনী রং) দুর্গ। এই আবহে নীল গড় বলেই পরিচিত মিশিগান এ বারেও দখলে রাখলেন ডেমোক্র্যাটরা। জিতলেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আব্দুল এল-সইদ। হারালেন ট্রাম্প সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে। আব্দুল কেবল মাইককেই হারালেন না, হারালেন তাঁর ‘ঘরের শত্রুকেও’।
প্রাইমারি নির্বাচনে (কে প্রার্থী হবেন, তা স্থির করতে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন) আব্দুলের কাছে হেরে গিয়েছিলেন হ্যালে স্টিভেনস। মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে হঠাৎই রাজনৈতিক ভোলবদল করে মিশিগানের রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ডেমোক্র্যাট নেত্রীর সমর্থন সত্ত্বেও মিশিগান আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হলেন রিপাবলিকানেরা। এর আগে মিশিগানের সেনেটর ছিলেন ডেমোক্র্যাট নেতা সেন গ্যারি পিটার্স। তিনি অবসর নিয়েছেন।
৪২ বছর বয়সি আব্দুল এর আগে স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বাবা মিশর থেকে আমেরিকায় চলে এসেছিলেন। আব্দুলের বড় হওয়া মিশিগানেই। নির্বাচনী রাজনীতিতে নামার আগে মূলত জনস্বাস্থ্য নিয়েই কাজ করেছিলেন তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ট্রাম্প মনোনীত প্রার্থী হিসেবেই প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন তিনি।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী। দাবি করেছিলেন আব্দুল আমেরিকাকে ঘৃণা করেন। পক্ষান্তরে আব্দুল মূলত দু’টি প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন। সেগুলির একটি হল, কর্মজীবী পরিবারগুলির দৈনন্দিন খরচ কমানো। অপরটি হল, রাজনীতিতে কর্পোরেট প্রভাব কমানো। গাজ়ার পরিস্থিতি এবং ইজ়রায়েলকে আমেরিকার সামরিক সাহায্যে নিয়েও মুখ খুলেছিলেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের অনেকের আশঙ্কা ছিল, আব্দুলের এই অবস্থান ইহুদি ভোটারদের রুষ্ট করবে। বাস্তবে দেখা গেল ২২ লক্ষ ভোট পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। রিপাবলিকান প্রার্থী পেয়েছেন ২০ লক্ষ ভোট।
জয়ের পর মার্কিন সেনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য সমাজমাধ্যমে লেখেন, “আমি মিশিগান প্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করব। এটা আমার কাছে সম্মানের। মিশিগান, আমরা একসঙ্গে জিতেছি। এখন আসল কাজ শুরু হবে।” এর আগে মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউসে মুসলিম সদস্য থাকলেও এত দিন সেনেটে কোনও মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হননি। প্রসঙ্গত, মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৫৪টিতে জিতে বা এগিয়ে থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী। রিপাবলিকানেরা পেয়েছে বা এগিয়ে রয়েছে ৪৪টি আসনে।